এজবাস্টনে জিততে পারল না নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার কেউই। এজবাস্টনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয়ী হল বৃষ্টি। তৃতীয় দফা বৃষ্টির পর ম্যাচ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে দুই আম্পায়ার। ফলে নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া দুই দলই পেয়েছে সমান ১টি করে পয়েন্ট। ম্যাচটা পণ্ড হওয়ায় বাংলাদেশের সেমির আশাটা কী আরও ধূসর হয়ে গেল? আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সেটাই। কারণ, প্রথম ম্যাচ জিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অর্জন করেছে পুরো ২ পয়েন্ট। এক ম্যাচ পর অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নামের পাশেও জমা হলো ১টি করে পয়েন্ট। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের নামের পাশেই এখন পর্যন্ত শূন্য।
দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির পর আবার ঠিকই শুরু হয়েছিল খেলা। তবে ৪৬ ওভারের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসটি নেমে এসেছিল ৩৩ ওভারে। তাতে ডি/এল পদ্ধতিতে অসিদের জয়ের নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২৩৫ রানের। সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৯ ওভারে মাত্র ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। একে একে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ ও মোয়েসেস হেনরিকেস।
দারুণ শুরু করা ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ওয়ার্নার ফিরে যান ১৬ বলে ১৮ রান করে। এরপর অন্য ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ওয়ান ডাইনে নামা হেনরিকেসকে বিদায় করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপের মুখে ঠেলে দেন অ্যাডাম মিলনে। ফিঞ্চ ৮ ও হেনরিকেস ১৮ রান করেন। হেনরিকেস আউট হওয়ার পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ তখন ব্যাট করছিলেন ৮ রানে।
এর আগে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ৯.৩ ওভার হতেই প্রথম দফা বৃষ্টি নামে এজবাস্টনে। তখন খেলা বন্ধ ছিল ১০৯ মিনিট। তাতে ৫০ ওভারের ম্যাচটি নেমে আসে ৪৬ ওভারে। কিন্তু কিউই পুরো ৪৬ ওভার ব্যাট করতে পারেনি। অল আউট হয়ে যায় ৪৫ ওভারেই। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে তার আগেই কিউইরা গড়ে ফেলে ২৯১ রানের পুঁজি। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে কিউইরা শুরুটা করেছিল ঝড়ো গতিতে। মাত্র ৫.৪ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৪০ রান। ২২ বলে ২৬ রান করে মার্টিন গাপটিল আউট হওয়ার পর রানের চাকাটা সাময়িকভাবে স্লো হয়ে যায় বটে; তবে অল্প সময়ের মধ্যেই রানের চাকাটা আবার দ্রুত ঘোরাতে শুরু করেন লুক রঞ্চি ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।
লুক রঞ্চি ৪৩ বলে করেন ৬৫ রান। উইলিয়ামসন তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৯ম এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি। ৯৯ বলে ঠিক ১০০ রান করে রান আউট হন তিনি। রস টেলর ৫৮ বলে ৪৬। কিউইদের সংগ্রহ এক সময় ৩০০ পেরিয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিউইদের ৩০০ পেরোতে দেননি জন হ্যাজলউড। অসি পেসার শেষ দিকে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে গড়েছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং কীর্তি। ৫২ রানে তুলে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট।
এটা শুধু তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেই এটা অস্ট্রেলিয়ান বোলারের সেরা বোলিং কীর্তি। সব দেশ মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটা দ্বিতীয় সেরা বোলিং কীর্তি। সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি এখনো শ্রীলঙ্কান পেসার ফারভেজ মাহারুফের দখলে। ২০০৬ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লঙ্কান পেসার মাত্র ১৪ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরুর আগে দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দেরি হয়। তবে পরে খেলা শুরু হলেও ম্যাচটা নেমে এসেছে ৩৩ ওভারে। তৃতীয় দফা শেষপর্যন্ত বৃষ্টি তো ভাসিয়েই দিল ম্যাচটি।