কথিত সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। প্রধানমন্ত্রী হাইদার আল-আবাদি যুদ্ধ শেষের এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ইরাক-সিরিয়া সীমান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি সৈন্যরা।

রামিয়ার সেনাবাহিনী সিরিয়ায় আইএস’র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অভিযান সম্পন্ন ঘোষণার দুই দিন পরই ইরাক সরকার এই ঘোষণা দিল।

বিবিসি জানায়, জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ২০১৪ সালে ইরাক এবং সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নেয়। খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে এক কোটি লোকের ওপর তাদের শাসন চাপিয়ে দেয়।

কিন্তু গত দুই বছর একর পর এক পরাজয় ঘটতে থাকে তাদের। গত জুলাইয়ে ইরাকের মসুল ও নভেম্বরে তাদের রাজধানী দাবী করা সিরিয়ার রাক্কা হাত ছাড়া হয় তাদের কাছ থেকে।

শনিবার আবাদি যে ঘোষণা দিয়েছেন তা অনেকের কাছে গর্বের বিষয়। এক সময় এই বিজয়কে অনেক কাল্পনিক মনে করা হতো।

তিনি বলেন, শত্রুরা আমাদের সভ্যতা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা আমাদের একতা এবং সংকল্প দিয়ে জয়লাভ করেছি। আমরা অল্প সময়েই এই জয়লাভ করেছি।

তবে আইএস’র বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধ যদি শেষও হয় এবং যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর সৈন্যরা যদি ফিরেও যায়, তার মানে এই নয় যে ইরাক, সিরিয়া বা পৃথিবীর যেথানেই হোক ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আদর্শিক যুদ্ধ শেষ হয়েছে।

হতে পারে হামলাকারীরা নিম্ন পর্যায়ের ছিল কিন্তু ইরাকের শহর-নগর এখনো আত্মঘাতি বোমা হামলার শিকার। এই অবস্থা জঙ্গিদের অস্তিরত্ব নতুন করে রসদ জোগাতে পারে।

আবার অনেক আইএস যোদ্ধা সিরিয়ায় এবং তুরষ্কে পালিয়ে গেছে। পরাজিত আইএস এখনও ভয় বাড়িয়ে চলেছে এই কারণে যে তাদের পালিয়ে যাওয়া সৈন্যরা বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে পারে।