সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফর নিয়ে গণভবনের সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে প্রায় আট মাস পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন তিনি। এর আগে ভারত সফর শেষে গত ১১ এপ্রিল সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভোটের মৃদুমন্দা হাওয়া বইছে উল্লেখ করে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রশ্ন রাখেন, পত্রিকায় অসংখ্য প্রার্থীর নাম আসছে। নাম ছাপলে আপনার নজরে আসবে। আওয়ামী লীগ যেহেতু বড় দল। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন ও প্রার্থী দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তর একটাই সব ফুল ফুটতে দিন। অনেকে প্রার্থী হতে চান, ভালো কথা। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। কেন সবাই প্রার্থী হতে পারবেন না? শত ফুল ফুটবে। হোক না। শত ফুলের মধ্যে যেটা ভালো সব থেকে সুন্দর ফুল সেটা আমরা বেছে নেবো। সময় এলে আপনারা দেখতে পারবেন। আর কীভাবে নেবো সেটা সময়ই বলে দেবে।

আগাম নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। এমতাবস্থায় আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টারি সিস্টেমে যে কোনো সময় নির্বাচন দেয়া যায়। তবে এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি, বা সমস্যায় পড়িনি যে, এখনই নির্বাচন দিতে হবে। তবে আমাদের উন্নয়নের ধারা আমরা অব্যাহত রেখেছি। উন্নয়নের কাজগুলো আমরা দ্রুত এগিয়ে নিতে চাই।

আমরা না থাকলে উন্নয়নের যে কি দশা হয় তা আপনারা দেখেছেন। ৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেগুলো আমরা করেছিলাম, যেগুলো বাকি ছিল সেগুলো আর সচল থাকেনি। উন্নয়নের সে ধারা অব্যাহত রাখেনি। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আমরা যে উন্নয়ন করেছি তা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি অন্য কোনো সরকার করতে পারে নাই। বিশ্বব্যাংকের যে দুর্নীতির যে অভিযোগ তা চ্যালেঞ্জ করার মতো সৎসাহস আমরাই দেখিয়েছি- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারেক রহমানকে ফেরত আনা হবে। তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি আর বলেন, খালেদা জিয়ার কাছে আমি ক্ষমা চাইবো কেন। তিনি আমাকে কেন ক্ষমা করবেন বুঝলাম না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কারণে তারই তো আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতির কাছেও তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি আদালতে হাজির হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিলাম।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রায় একডজনের মতো মামলা দিয়েছিল খালেদা জিয়া।

সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফরের ওপর সংবাদ সম্মেলনটি হয়। এখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। যৌথ কমিটির মাধ্যমে শরণার্থীদের ফেরত নেওয়া হবে। প্রতিবেশী দেশ বলেই আমি চাই, সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তা পাচ্ছি। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনও এ বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে গত ৩ নভেম্বর দেশটির রাজধানী নমপেনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে কম্বোডিয়া থেকে ৫ ডিসেম্বর বিকালে দেশে ফেরেন তিনি। তার এই সফরে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন, কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল, আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ঢাকা ও নমপেনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুই দেশের জাতির পিতার নামে নামকরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার রয়েল প্যালেসে রাজা নরদম সিহামনের দেওয়া রাজকীয় অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। কম্বোডিয়ান চেম্বারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংলাপে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।

এছাড়া কম্বোডিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে দেশটির প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। নমপেনের কেন্দ্রস্থলে তুল সেলং জেনোসাইড মিউজিয়ামও পরিদর্শন করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ১৬ থেকে ১৮ জুন শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here