আলোচনা, সমালোচনা, বিদ্রুপ যাই বলুন না কেন, বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে উইকেট আপনার পিছু ছাড়বে না। টেস্ট সিরিজ থেকেই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে থাকলে স্বাগতিকদের উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলে।

আর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলেই হয় উল্টোটা! আজ ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটল! ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটিং ভুলে গেল সবাই; আবার বল হাতে নিয়ে বোলিংটাই যেন মাথা থেকে চলে গেল মুস্তাফিজদের।
যে উইকেটে প্রচণ্ড লড়াই সংগ্রাম করে কোনমতে মাত্র ২৫৫ রানে অল-আউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ; সেই উইকেটে ১৪৭ রানের ওপেনিং জুটি উপহার দিল প্রোটিয়া আমন্ত্রিত একাদশ! অভিষেক টেস্ট সিরিজে নায়ক বনে যাওয়া এইডেন মার্করাম ৮২ রান করে নাসির হোসেনের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়েছেন। বেচারার দুর্ভাগ্য বলতে হবে। ৬৮ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারি এবং ১টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন মার্করাম। টেস্টের পাশাপাশি যে তিনি ওয়ানডে খেলারও যোগ্য; এটাই তার প্রমাণ।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৬১ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার (৩) এবং ইমরুল কায়েস (২৭) আর লিটন দাস (৮)। দুজনেই ফ্র্যালিংকের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। পরীক্ষমুলকভাবে তিন নম্বরে নেমে লিটন দাসও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

পরবর্তী ব্যাটসম্যানরাও সুবিধা করতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন ২২ রান করে। ভালো খেলতে খেলতে ২১ রানে এলবিডাব্লিউ হয়ে গেছেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। সবার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাকিব ৯টি চারে সাজিয়েছেন তার ৬৮ রানের ইনিংসটি। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৫৪ বলে। ৭ নম্বরে নেমে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সাব্বির রহমানও। ৭১ বলে ২ চার এবং ৩ ছক্কায় ৫২ রান করে আউট হন তিনি। এছাড়া বাকী ব্যাটসম্যানরা কেউই ৩০ এর ঘর পার হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ২৫৫ রানে অল-আউটের লজ্জা পেল সফরকারীরা।