মাসুদ সেজান: বিগত কয়েক বছরের ঈদে নিয়মিতভাবেই মাসুদ সেজানের নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়ে আসছে। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবার মাসুদ সেজানের তিনটি ৭ পর্বের ঈদ ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়। সেগুলো হলো- এনটিভিতে ‘অ্যাবনরমাল’, একুশে টিভিতে ‘গরীব কেন কাঁদে’ ও বাংলাভিশনে ‘চরিত্র: নেতা’। এর মধ্যে ‘অ্যাবনরমাল’ ও ‘চরিত্র: নেতা’ নাটক দুটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানা গেছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অনেক দর্শকদেরই নাটক দুটির লিংক শেয়ার করতে দেখা গেছে। মাসুদ সেজান মূলত তার সব নাটক নিজেই লিখে থাকেন। তার নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, হাস্য-রসাত্মকের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তার নাটকে সমাজের নানা অসঙ্গতি তিনি তুলে ধরেন।

সাগর জাহান: এবারের ঈদে সাগর জাহানের তিনটি ৭ পর্বের ঈদ ধারাবাহিক ও একটি খণ্ড নাটক প্রচারিত হয়েছে। এগুলো হলো- আরটিভিতে খণ্ড নাটক ‘মাখন মিয়ার উদার বউটা’, ধারাবাহিক নাটক ‘মাহিনের অনেক সাধের ঘড়ি’, বাংলাভিশনে ধারাবাহিক নাটক ‘মেরিড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম’ ও এনটিভিতে ‘নবাবের প্রেম’। ধারাবাহিক তিনটির মধ্যে দুটি হলো সিক্যুয়াল। গত ঈদে প্রচারিত ‘মাহিনের নীল তোয়ালে’ ও ‘অ্যাভারেজ আসলাম ইজ নট এ ব্যাচেলর’ ধারাবাহিক দুটির সিক্যুয়ালই মূলত ‘মাহিনের অনেক সাধের ঘড়ি’ ও ‘মেরিড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম।’ সিক্যুয়াল এই দুটি ধারাবাহিকেরই মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। ফলে মোশাররফ ভক্তরা হাস্য-রসাত্মক এই নাটক দুটি উপভোগ করেছেন। আর অন্য দুটি নাটকের মূল চরিত্রে ছিলেন জাহিদ হাসান ও তিশা।

সাফায়েত মনসুর রানা: চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে জিটিভিতে প্রচারিত ‘অ্যাওয়ার্ড নাইট’ নাটকটি দিয়ে দর্শক-সমালোচকদের নজর কাড়েন সাফায়েত মনসুর রানা। তার নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সব নাটকই তিনি নিজেই লেখেন ও অধিকাংশ নাটকে অভিনয়ও করেন। ফলে নির্মাতার পাশাপাশি ভালো একজন লেখক ও অভিনেতা হিসেবেও সাফায়েত মনসুর রানা এখন মিডিয়াতে বেশ পরিচিত মুখ। এবারের ঈদে সেই ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। সেগুলো হলো- জিটিভিতে ‘চার সপ্তাহ’, এনটিভিতে ‘আমরা ফিরবো কবে’ ও আরটিভিতে ‘ক্যাফে ৯৯৯’। এই তিনটি নাটকই বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সাফায়েত মনসুর রানা জানান, তিনটি নাটকই তিন ধরনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। ফলে দর্শকের কাছে কোনটিই যাতে একঘেঁয়ে না লাগে সেজন্য তিনি সচেষ্ট থেকেছেন। প্রচলিত ধারার প্রেম-ভালোবাসার বাইরেও যে নাটক নির্মাণ করা সম্ভব সেটিই তিনি করে থাকেন। আর এবারের তিনটি নাটকেও সেটি বজায় রাখার চেষ্টা তিনি করেছেন। ইতিমধ্যে ফেসবুক আর ইউটিউবে নাটক তিনটি নিয়ে দর্শকরা তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। মানুষজন নাটকগুলোর লিংক শেয়ার করছেন। এটিই বোধহয় একজন নির্মাতার জন্য বড় সার্থকতা জায়গা।

মিজানুর রহমান আরিয়ান: এবারের ঈদে তরুণ লেখক ও নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের ৫টি নাটক-টেলিফিল্ম বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। সেগুলো হলো- চ্যানেল নাইনে ‘বড় ছেলে’, এনটিভিতে ‘ব্যাচ ২৭- দ্য লাস্ট পেজ’, বাংলাভিশনে ‘চেয়েছি তোমায়’, জিটিভিতে ‘বলা হলো না’ এবং এটিএন বাংলায় ‘ইচ্ছে তাই’। এর মধ্যে মিজানুর রহমান আরিয়ানের নিজের লেখা ও নির্দেশনায় ‘বড় ছেলে’ ও ‘ব্যাচ ২৭- দ্য লাস্ট পেজ’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বড় ছেলে’ টেলিফিল্মটির মূল প্রাণই হলো এর অসাধারণ স্ক্রিপ্ট। টেলিফিল্মটিতে অপূর্ব ও মেহজাবিন দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। ইউটিউবে সিডি চয়েসের নিজস্ব চ্যানেলে আপলোডের মাত্র ৪ দিনেই এটির ভিউ ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। এতেই বোঝা যায় এই টেলিফিল্মটিকে ঘিরে সাধারণ দর্শকের আগ্রহ কি পরিমাণ। আর ‘ব্যাচ ২৭- দ্য লাস্ট পেজ’ টেলিফিল্মটি মূলত গত ঈদে এনটিভিতে অনএয়ার হওয়া ‘ব্যাচ ২৭’ টেলিফিল্মের সিক্যুয়াল। এটিও দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছেন বলে আরিয়ান জানিয়েছেন। গত ঈদুল ফিতরেও বিভিন্ন চ্যানেলে আরিয়ানের ৫টি নাটক-টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছিল। আরিয়ান বলেন, আমি ২-৩টির বেশি কাজ করতে আগ্রহী না। তবুও চ্যানেল আর দর্শকদের কথা মাথায় রেখে পর পর দুই ঈদেই ৫টি করে নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছি। তবে এগুলো করতে গিয়ে কোয়ালিটির সঙ্গে কখনোই আপস করিনি। যে কারণেই দর্শকরা আমার নাটক-টেলিফিল্ম পছন্দ করেছেন।

নুহাশ হুমায়ূন: ঈদে জিটিভিতে প্রচারিত হয় নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পুত্র নুহাশ হুমায়ূন নির্মিত প্রথম নাটক ‘হোটেল আলবাট্রোস’। নাটকটি নুহাশ হুমায়ূনের নিজের লেখা। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি হোটেলে থাকা কয়েকজন শেফকে নিয়ে। প্রথম নাটকেই দর্শক মন জয় করতে পেরেছেন নুহাশ হুমায়ূন। দর্শকরা তার কাজ পছন্দ করেছেন। ঈদের আগেই যখন মিডিয়াতে সংবাদ এলো যে, নুহাশ হুমায়ূনের প্রথম কাজ এবারের ঈদে আসবে তখন থেকেই অনেকে তার কাজ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলেন। তবে তাদের নুহাশ হতাশ করেননি। বরং নতুন এ নির্মাতার গল্পের বুনন আর নির্মাণশৈলীর প্রশংসাই ঝরেছে অনেক দর্শকের কণ্ঠে। নুহাশের প্রথম নাটকেই কাজ করেছেন তার বাবা হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটকের নিয়মিত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। তরুণ নির্মাতা নুহাশের ব্যাপারে অভিনেতা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘নুহাশ এ সময়ের নির্মাতা। এ নাটকের গল্পে সে তার নিজস্ব ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছে। সে কীভাবে কাজ করতে চায়, এ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। নির্মাতা হিসেবে এটা খুবই প্রয়োজন।’ হোটেল আলবাট্রোস দেখে দর্শকের প্রত্যাশা যে বেড়েছে অনেকখানি, সেটা বলাবাহুল্য। এ জন্য দর্শকরা আগামীতে তার কাছ থেকে আরো ভালো ভালো নাটক পাবে সেই আশা তো করতেই পারে।

জামিল আশরাফ খান নয়ন: এনটিভিতে এবারের ঈদ আয়োজনের ৭ম ও শেষ দিনে প্রচারিত হয় জামিল আশরাফ খান নয়নের রচনা ও পরিচালনায় খণ্ড নাটক ‘ভালোবাসার সম্পাদকীয়।’ এটি জামিলের দ্বিতীয় নাটক। এর আগে তিনি বানিয়েছিলেন ‘শেষ দৃশ্যের আগে’। ‘ভালোবাসার সম্পাদকীয়’ নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন কবির ও শার্লিন। নাটকে জন কবির একজন সাংবাদিক ও শার্লিন তার প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সাংবাদিকদের বাস্তব জীবনকে নির্মাতা তার নাটকে তুলে ধরেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনজনও যে পর হয়ে যায় সেটি নাটকে দেখা যায়।

জামিল আশরাফ খান নয়ন বলেন, আমি নিজে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থেকে বুঝেছি যে এই পেশাটি কতটা চ্যালেঞ্জিং। এ ছাড়া এখানে প্রতিনিয়ত নিজের পারফর্মেন্সের পরীক্ষা দিতে হয়। এখানে ভালো করলে খুব বেশি সুনাম নেই। তবে সামান্য ভুলের জন্য তিরস্কারসহ বড় মাশুল দিতে হয়। এসব কিছুই আমি চেষ্টা করেছি নাটকে তুলে আনতে। নাটকটি প্রচারিত হওয়ার পর থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শকদের পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। এ বিষয়গুলো আমাকে সামনের দিনে আরো ভালো কিছু করতে উদ্যমী করবে।