চালের দাম বাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার পরে এবার বেড়েছে পেঁয়াজ, ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও আদার দাম। এ সপ্তাহে দুইএক প্রজাতির সবজির দাম সামান্য কমলেও কাঁচা মরিচের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। তবে রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। রাজধানীর রামপুরা, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে এবং খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

‘কোনো পণ্যের দাম বাড়লে আর কমে না’ এ নীতিকে আবারো সত্য প্রমাণ করেছে চালের বাজার। মাস খানেক আগে হঠাত্ চালের বাজার চড়া হলে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু কেজিতে ১৫ টাকার বাড়ার পরে এসব উদ্যোগে দাম কমেছে ২-৩ টাকা। এরপর আর কমছে না। চালের এ দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পণ্যের উপর। এই ধারাবাহিকতায় দুই সপ্তাহ আগে হঠাত্ বাড়তে শুরু করে কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম। কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে। যা এখনো বহাল রয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এটি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

বাজারে শীতকালীন সবজি আসা শুরু হলেও দাম এখনো চড়া। কিছু কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন। গতকাল বাজারে কালোবেগুন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ও সাদা বেগুন ৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ও করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরোল ৪৫ তেকে ৫৫ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা ও আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁঁটি প্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে ঢেঁরস, পটলসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশি-বিদেশি সব ধরণের পেঁয়াজ গত সপ্তাহের তুলনায় গতকাল ৮ থেকে ১২ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে। আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। পাশাপাশি বেড়েছে আদার দাম। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে আমদানিকৃত রসুন ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬৫-৬৮ টাকা, নরমাল মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ভালো মানের বিআর২৮ কেজিপ্রতি ৫৬-৫৮ টাকা, নরমল বিআর২৮ ৫০-৫৬ টাকা, মোট স্বর্ণা চাল ৪৫-৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাসমতি ৬৫-৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা, মাসকলাই ১২৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইলিশ ধরায় নিষিদ্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ দেখা মেলেনি।

ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে।