কমতে কমতে প্রায় তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে ভারতের সাবেক শাসক দল কংগ্রেস। সেই ২০১৪ সালে দলটির যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রয়েছে।

১৮ ডিসেম্বর ক্ষত আরও গভীর হল। আরও একটি রাজ্যে ক্ষমতা হারাল সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আধুনিক ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। ২০১৪ থেকে যে ধাক্কা শুরু হয়েছিল, ২০১৭ তে এসেও তা সামলাতে পারল না দলটি। তার নয়া সংযোজন হিমাচলপ্রদেশ ও গুজরাটে হার।
সোনিয়া-রাহুল নেতৃত্বের জামানায় ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে কংগ্রেস। বর্তমানে ২৯টি রাজ্যের মধ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় রইল শুধু ৪টি রাজ্যে- কর্নাটক, মিজোরাম, মেঘালয় ও পাঞ্জাব। সেখানে বিজেপি একাই ক্ষমতায় রয়েছে ১৪টি রাজ্যে এবং জোট হিসেবে ক্ষমতায় আছে ৫টি রাজ্যে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটের পর মোট ১৮টি রাজ্যে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১১টি রাজ্যে।

সেখানে কংগ্রেস মাত্র দুটিতে।
২০১৪-র লোকসভা ভোটের পর কংগ্রেসের হার শুরু হয় দক্ষিণে। তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ ভাগ করেও, দুটি রাজ্যেই ভরাডুবি হয় দলের। অরুণাচল প্রদেশে কংগ্রেস জয় পায়। তারপর দলটির একাধিক বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দেন।

জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের মধ্যে হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্র এখন বিজেপি-র। জম্মু-কাশ্মীরে PDP-র সঙ্গে জোট। ২০১৫-এ বিহার ও দিল্লিতে ভোট হয়। দিল্লিতে AAP ঝড়ে উড়ে যায় সোনিয়া-রাহুলের দল। সেখানে বিজেপি-র সাকুল্যে মাত্র ৩টি আসন কমে। বিহারে বিজেপি হারে। নীতীশ কুমারের JD(U)র সঙ্গে জোট করে সরকার গড়ে কংগ্রেস। মধুচন্দ্রিমা স্থায়ী হয় দেড় বছর। নীতীশ বিজেপি-র হাত ধরতেই বিহারে কংগ্রেসবিরোধী।

২০১৬ সালে কংগ্রেস হারে কেরালা ও আসামে। কেরালায় বামেদের কাছে ও আসামে বিজেপি-র কাছে। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের হারানোর বিশেষ কিছু ছিল না, কারণ সে রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরে AIADMK। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থা আরও শোচনীয়। বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।

এ বছরের শুরুতে ৫টি রাজ্যে ভোট হয়। পাঞ্জাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু উত্তরাখণ্ডে ভরাডুবি। মনিপুর ও গোয়াও বিজেপি-র দখলে। গোয়া ও মনিপুরে কংগ্রেস একক ভাবে জিতলেও পরে দুটি রাজ্যই বিজেপি-র দখলে চলে যায়।

আর এখন গুজরাট ও হিমাচলের ফলাফল তো দেখাই গেল।