ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান কমান্ডার সদস্য আবু দুজানা ও তার এক সহযোগী নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় কাশ্মীরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের দক্ষিণে হরকিপরা গ্রামের একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে অভিযান চালালে আবু দুজানা ও তার সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। খবর এএফপির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামটির দুটি বাড়ি থেকে বিদ্রোহীরা গুলি চালায়। এর মধ্যে একটি বাড়ি ভারতীয় সেনারা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং আরেকটি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলইটি কমান্ডার আবু দুজানার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যে নিহত হয়েছে সে একজন কিশোর।

এদিকে আবু দুজানা নিহত হওয়ার ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ।

তারা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে ছুড়তে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভ থামাতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেটের পাশাপাশি গুলি চালায় ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা। এতে অন্তত একজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদিনের ২২বছর বয়সী কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হন। এরপর কাশ্মীর জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক কাশ্মীরি নিহত ও কয়েক হাজার অন্ধত্ব বরণ করেন।

নতুন করে আবু দুজানার মৃত্যুতে ফের কাশ্মীরে তীব্র সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।