আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এটিই বর্তমান সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট।

এবারের বাজেটে চারটি খাতে বেশি বরাদ্দ থাকবে। সাধারণ মানুষের ও ব্যবসায়ীদের নজর থাকবে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনে। কারণ আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। নতুন এ আইনে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের কথা রয়েছে যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি এ হার কমানো হবে।

আগামী বাজেটের আকার অনেক বড় হবে এবং ৪ লাখ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে তার জন্যই কাজ চলছে বলে আভাস দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিত।

আগামী বাজেট নিয়ে কথা হয়েছিল অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এর সঙ্গে। তিনি জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষা, অবকাঠামো, কৃষি ও বিদ্যুৎ এ চারটি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে এবং এসব খাতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বেশি থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। আগামী বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন সহনীয় এবং বাস্তবসম্মত হবে।

নতুন বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কী পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাংকগুলোর ভর্তুকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে আমি ছিলাম। আসলে ভর্তুকি সব ব্যাংকের লাগবে না। ১-২টা ব্যাংকের প্রয়োজন হতে পারে সেটা আমাদের বিবেচানাধীন আছে। আমরা জানি এটা জনগণের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় বিষয় নয়। কী পরিমাণ ভর্তুকি হবে সেটার সঠিক ফিগার আমি বলতে পারবো না। তবে ২-৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবর রহমান জানান, দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেট ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব হবে।
তিনি জানান, এবারের বাজেটে ব্যক্তিখাতে রাজস্ব না বাড়িয়ে শিল্প ও সেবা খাতের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্বের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন।
আগামী বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, ‘বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী-বান্ধব। আমরা দেশের প্রাণ রাজস্ব প্রদানে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা সবার চাইতে বেশি। সুতরাং ব্যবসায়ীদের দিক বিবেচনা করেই সরকার ব্যবসা-বান্ধব ও স্বস্তিদায়ক ভ্যাট হার নির্ধারণ করবে।’
এদিকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর চাপ বাড়াবে মন্তব্য করে সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ না করে এ হার ১২ শতাংশ করা উচিত। এক বারে না হলেও ধাপে ধাপে ভ্যাট কমিয়ে আনা যেতে পারে। নতুবা এই নতুন ভ্যাট আইন বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন ‘বিজিএমইএ’ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, এবারের বাজেটে বিশ্ব বাজারে দেশীয় তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে আগামী দুই বছর উৎসে কর সেই সঙ্গে রফতানির ওপর নগদ পাঁচ শতাংশ সহায়তা প্রদান ও করপোরেট ট্যাক্স হার ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী২০১৭-১৮ অর্থ-বছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৪ লাখ কোটি টাকার ওপরে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।