কোথাও বেড়াতে যাবার আগে আমাদের ভাবনায় আগেই এসে ভাগ বসায় বাজেট। মানে কত খরচ হবে। আর তারপরেই আসে সময়ের ব্যাপার। ছুটি মেলে কি না, সেই হিসেব আসবেই। বাজেট আর ছুটি মিলিয়ে যদি একটা সুযোগ তৈরি হয়, তবেই ঘুরতে যাওয়া যায়। তবে মাত্র তিন থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যে ঢাকা থেকে একদিনের মধ্যে ঘুরে আসা যায়, এমন সুযোগ নিশ্চয়ই হাতছাড়া করা যায় না। সেটা শহরের খুব কাছেই। সাভারের বিরুলিয়ায়। সেখানে বিস্তৃত গোলাপের বাগান।

ঢাকার অদূরবর্তী গ্রাম বিরুলিয়া। বর্ষায় আর শুকনো মৌসুম বিরুলিয়ার রূপ আলাদা। বর্ষায় মিরপুরের দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে বিরুলিয়াকে ডিঙি নাওয়ের মতো মনে হতে পারে। শুকনো মৌসুমে এর চারপাশের নিচু জমি সবুজে সয়লাব থাকে। তখন বিরুলিয়াকে মনে হবে যেন কোনো মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড। হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী প্রাচীন এক জনপদ বিরুলিয়া। ছোট্ট একটি খালের মতো জলাশয়, যা তুরাগ নদীর অংশবিশেষ। জলাশয় পার হতে গেলেই চোখে পড়বে শতবর্ষ পুরনো এক বটবৃক্ষ, ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা তার শিকড়।

সাহদুল্লাপুর ঘাটে পৌঁছানোর পর ঘাটের বট গাছের নিচে বসে চা-নাস্তা করে নিতে পারেন। এরপর পুরো গ্রামটা হেঁটে ঘুরবেন। পুরোটাই যেন গোলাপের বাগান! যতদূর যাবেন গোলাপে ঢাকা চারপাশ আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপ।গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে গোলাপের সৌরভ। নৌকা ঘাটের পাশেই বিরাট বটবৃক্ষ।

সাহদুল্লাপুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই বিরুলিয়া। আজকের ছোট্ট গ্রাম প্রায় ১০০ বছর আগে ছিল বিরুলিয়া নগরী। এখানে রয়েছে শ্রী শ্রী বৃন্দাবন চন্দ্র জিউ বিগ্রহ মন্দির, বয়স হয়েছে একশ বছরের বেশি। মন্দির সংলগ্ন নকশাবহুল তিনতলা বণিকবাড়ি। আরো আছে জমিদার রজনীকান্তের আবাসঘর। বাড়ির দেয়ালে ফুল, পাখি, লতার নকশায় সজ্জিত। একটু পা চালিয়ে ছাদে উঠে গেলে প্রাণ জুড়িয়ে যাওয়া সৌন্দর্য চোখে পড়ে। আগে বাড়িতে ঢাল, তলোয়ার ও জমিদারদের ব্যবহারের নানা জিনিস ছিল, এসব চুরি হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক ১৪-১৫টি নকশাবহুল শতবর্ষী ভবন ছিল একসময় বিরুলিয়ায়, এখন ধুঁকে ধুঁকে ৭-৮ টির মতো টিকে আছে।

যেতে চাইলে ঢাকার মিরপুর ১ থেকে রিক্সায় করে চলে যাবেন দিয়া বাড়ী। সেখান থেকে নৌকাযোগে যেতে হবে সাহদুল্লাহপুর, প্রায় চল্লিশ মিনিট এর রাস্তা. সেখনে রয়েছে গোলাপের সাম্রাজ্য. তাছাড়া মাজার ঘেরা শত বছর এর পুরান বট গাছ। সেখান থেকে অটোতে করে চলে যেতে হবে কিছু কিলোমিটার দুরের বিরুলিয়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here