এক সময় আমরা যে বিচিত্র মাছের সাথে জলের সখ্য দেখেছি, যেসব মাছ আমাদের খাদ্য তালিকার সামনের দিকে ছিল, দেশী মাছের সেসবের অনেক মাছই আর দেখা যায় না। বিলুপ্তপ্রায় ৫৪ প্রজাতির দেশি মাছের মধ্যে মেনি মাছ অন্যতম। নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়া, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অন্য মাছের সঙ্গে এই মাছটিও বিলুপ্তির পথে।

একসময় গ্রাম-গঞ্জের মানুষ খাল-বিল, ডোবায় জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে ছোট মাছ ধরতো। প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে সে সব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না। বিলুপ্তপ্রায় মেনি মাছকে কেউ কেউ ভ্যাদা মাছও বলে থাকেন। আবার কেউ বলেন রায়না মাছ। তবে এখানকার মানুষ এই মাছটিকে ধেদো বা বোকা মাছ জানে।

মাছটি খেতে বেশ সুস্বাদু। এ মাছটি একসময় জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। বর্তমানে এদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে। মেনি মাছ মিঠা পানির মাছ। মাছটির দেহের রং কালচে সবুজ। দেহ চাপা এবং দেহের দু’পাশে হলুদ-সবুজাভ ডোরা দাগ। এরা প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় এবং নদীতে পানির তলদেশে কর্দমাক্ত পরিবেশে বসবাস করে। বর্ষাকালে প্লাবিত ধান ক্ষেতে বা পাট ক্ষেতে এদের পাওয়া যায়। এরা সাধারণত জলজ পোকা-মাকড়, পোকার লার্ভা ও ছোট মাছ খেয়ে থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে প্রজনন হয়ে থাকে। সৈয়দপুরে স্বাদু পানি উপ-কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট কারণে দেশের মিঠাপানির ৩০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং ৫৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়।

মানুষ সচেতন হলে ফসলি জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করলে এবং প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ না ধরলে ও কারেন্ট জাল ব্যবহার না করাসহ নদ-নদীতে কল-কারখানার বর্জ্য না ফেলা হলে দেশের মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের অনেকগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here