ব্রঙ্কসের স্টারলিং এভিনিউতে আবার চালু হচ্ছে ঈর্ষনীয় সাফল্য পাওয়া রেস্টুরেন্ট নিরব। আগামী জানুয়ারীর শেষে অথবা ফেব্রুয়ারীর শুরুতে এটি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেস্টুরেন্টটির মালিক বখতিয়ার রহমান খোকন। ২০৯৬ স্টালিং এভিনিউতে স্টার্লিং ফার্মেসীর ঠিক পাশের দোকানটাই হবে নিরবের নতুন ঠিকানা। বর্তমানে সেখানে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এরই মধ্যে এটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন খোকন। এ মাসের শেষের দিকে ডেকোরেশন শুরু করবেন। রেস্টুরেন্টের ভেতরের ইন্টিরিয়র কি হবে তা নিয়ে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ এর জানুয়ারীতে নিরব নামে স্টার্লিং এ একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন বখতিয়ার খোকন। বছর না ঘুরতেই কানেকটিকাট, নিউজার্সী, পেনসিলভেনিয়া ও নিউইয়র্ক শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এর সুনাম। মানুষের মুখে মুখে ফেরে নিরবের খাবারের স্বাদ। নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি নিউজসহ আমেরিকার খ্যাতনামা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয় নিরবের খাবারের প্রশংসা।
অংশীদারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৫ সালের ১৫ মে নিরব ছেড়ে দেন খোকন। ওয়েচেষ্টার এভিনিউর এ ক্যাসেলহিল সাবওয়ের কাছে গড়ে তোলেন প্যাকসান নামের একটি হালাল চিকেনের দোকান। প্রথমে শুধু চিকেন দিয়ে শুরু করলেও পরে সংযোজন করেন দেশীয় খাবার। ১ বছর পর নিরবের নাম ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন খোকন। দায়ের করেন পার্টনারশিপ পজিশন ডিসপিউট মামলা। ৬ মাস পর অংশীদার শাহিন ও জাকিরের সাথে তার সমঝোতা হয়। তিনি ফিরে পান ঐতিহ্যবাহী নাম ‘নিরব’। আর স্টারলিং এর নিরব হয়ে যায় আল আকসা রেস্টুরেন্ট।
নতুন করে নিরব চালু প্রসঙ্গে সফল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বখতিয়ার খোকন প্রবাস নিউজ ডটকমকে বলেন, ২০০৯ সালে নিরব চালু করার আগে সেটা ছিলো মেঘনা গ্রোসারী ও রেস্টুরেন্ট। ভারি নোংরা জায়গা ছিলো সেটা। আমি তাদের প্রস্তাব দিলাম টাকা আমি দেবো জায়গা তাদের। রেস্টুরেন্টের জন্য ‌ধানসিড়ি এবং নিরব এই দুটো নাম ঠিক করলাম। আমার মা বললেন নিরব নামটা বেশ ভালো। মায়ের পছন্দে নাম রাখলাম নিরব। খোকন বলেন, নিবর জনপ্রিয় হবার কারন মূলত চারটি। প্রথমত আমার বন্ধুদের অবদান সবার আগে স্বীকার করতে চাই। নিউইয়র্কে আমার অনেক বন্ধু। ওরা নজীরবিহীন প্রচার করেছে। দ্বিতীয়ত আমাদের মা, নানি, দাদিরা যা রান্না করতেন সেই স্বাদ আমরা প্রবাসে মিস করতাম। তাদের সেইসব খাবার আমেরিকার মূলধারার খাবারের সঙ্গে যোগ করতে চেয়েছিলাম। তিন নম্বর হলো আমার টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কাস্টমারদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার।। সবশেষ পয়েন্ট হলো আপনাদের তৃপ্তি আমাদের আনন্দ। অর্থাৎ খাবারের মাধ্যমে আমরা আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম সবাইকে। নতুন করে যে নিরব ফিরে আসছে তাতে কোন চমক থাকছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, পূর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে আমাদের মূল কমিটমেন্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here