নিউইয়র্কে বরেণ্য কবি কামাল চৌধুরীর জন্মদিন পালিত হলো। হৃদয়ের গভীর আবেগ আর ভালোবাসায় কথা,কবিতা,গানে প্রিয়জনকে সিক্ত করলেন প্রবাসীরা। কবির প্রতি বিনম্র মমতা এবং আর কবিসত্ত্বাকে সম্মান জানাতে বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী মিলিত হন এক মিলন মেলায়। গতকাল রোববার ছুটির দিনে জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। বাল্যবন্ধু নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরনের উদ্যেগ ও মূল পরিকল্পনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জার্নালিস্ট ফোরামের ফোরাম। মুক্তধারা নিউইয়র্ক এবং চ্যানেল আই এর বিশেষ সহযোগিতায় কবিকে ঘিরে দারুন এক সন্ধ্যা উপভোগ করেন আগত অতিথিরা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। বক্তব্য রাখেন ড. মাহবুব হাসান, ড. সিদ্দিকুর রহমান, রাগিব আহসান, ফখরুল রচি, হাসান আল আবদুল্লাহ, এরপর আবৃত্তি নিয়ে আসেন কবি মিথুন আহমেদ, গোপন সাহা প্রমুখ। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান কামাল চৌধুরীকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পড়ে শোনান। এরপর কবির কাছে নানা প্রশ্ন রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। জানতে চান, তার শৈশব, কৈশরসহ জীবনের সাতকাহন। কবি উত্তর দেন। তিনি জানান, মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষার সময় সবাই যখন পড়া নিয়ে ব্যস্ত সেই সময় কবিতা লেখার নেশা চেপে বসে তার মাথায়। ছেলের হাবভাব ভালো না দেখে চিন্তায় পড়ে যান তার বাবা। কিন্তু পরীক্ষায় তিনি যখন ফাষ্ট ডিভিশন পান তখন বাবা বুঝতে তিনি যা ভেবেছিলেন ছেলে তার চেয়ে অনেক বেশি মেধাবী। ঢাকা কলেজে ভর্তি হবার পর জাফর ওয়াজেদসহ বাঘা বাঘা কবিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয় বলে জানান তিনি। বাদ দেননি প্রেম প্রসঙ্গও। বলেন, মাত্র বিসিএস দিয়েছি। প্রেমে পড়ে যাই তখন। কিন্তু পরিবার রাজি না থাকায় বেশ কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হয় বৈকি। তখন সবে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাই কিছুদিন ছেদ পড়ে যায় লেখালেখিতে। সহসাই তা সামলে নিয়ে শুরু করি নতুন অভিযাত্রা। হতাশা এবং আনন্দে সব সময়েই লিখেছি। লেখা বন্ধ করিনি। তিনি বলেন, কবিতা হচ্ছে এমন একটা বিষয় যার মধ্যে ভাষার সকল উপাদান থাকবে। যে কবিতা লেখার পরে আনন্দ পাওয়া যায় সেটাই কবির কাছে প্রিয় কবিতা। আমি কবিতাকে সম্পর্শ করতে চাই। আমি যখন আমার সময়ের কবিতা নিয়ে ভাবি তখন আমি এর মধ্য দিয়ে আমার প্রজন্মের চোখে দেখি। কবি জানান, চাকুরি এবং কাব্য চর্চার মধ্যে একটা সীমা রেখা রাখার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যখন কাজ করেছি তখন অনেক চেক এন্ড ব্যালেন্স করতে হয়েছে। অবশ্য আমি যখন সরকারি কাজ করেছি তখন সেই কাজটাকে মনযোগ দিয়ে করেছি।
সবশেষে আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রানে..গানটি গেয়ে শোনান ছায়ানটের অর্ঘ্য সারথি দাশ। এরপর নৈশভোজের ফাকে কবি কামাল চৌধুরীর সঙ্গে একান্ত আড্ডায় শেষ হয় এ প্রীতি সম্মিলন।
১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কামাল চৌধুরী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয়করা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আহমদ হোসেন চৌধুরী ও মা বেগম তাহেরা হোসেনের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক (এস. এস. সি) এবং ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচ. এস. সি) পাশ করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন এবং ব্যাচেলরস ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here