আগামী ২০১৮ সালের শেষদিকে বা ২০১৯ সালের জানুয়ারির দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে হিসাব করে পরবর্তী ৫ বছর মেয়াদের মধ্যেই আগামী নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। আইন অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এর প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২৯ জানুয়ারি থেকে। মূলত এদিন থেকেই পরবর্তী ৫ বছরের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে আগামী নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

তবে আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে সেই প্রশ্নে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশনে দেয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রধান সব ইস্যুতেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

কোন ধরনের সরকারের অধীনে হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিপরীত অবস্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দেয়া প্রস্তাবেও দেখা যাচ্ছে প্রধান প্রায় সব ইস্যুতেই দুই মেরুতে অবস্থান দল দুটির।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে সহায়ক সরকার চায় বিএনপি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে দলটি। তবে সংসদ ভাঙার প্রস্তাব নাকচ করেছে আওয়ামী লীগ। সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

২০০৮ সালের আগে ৩০০ সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিলো বিএনপি চায় সেই আগামী নির্বাচনও সে সীমানাতে হোক। তবে এ দাবিও মানছে না আওয়ামী লীগ। দলটি চায় বর্তমান সীমানাতেই হোক একাদশ সংসদ নির্বাচন।

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিপক্ষে বিএনপি। দলটির নেতাদের আশঙ্কা এই প্রযুক্তিতে কারচুপির সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে ইসির সংলাপে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম চালুর প্রস্তাব করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষে নির্বাচনের জন্যই ইভিএম দরকার।

নির্বাচনে পেশিশক্তির ব্যবহার ও কারচুপি ঠেকাতে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনর দাবি বিএনপির। আর নির্বাচন কমিশন চাইলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েনে আপত্তি নেই আওয়ামী লীগের, তবে বিচারিক ক্ষমতা দিতে তীব্র আপত্তি দলটির। প্রধান দুই দলই দাবি করছে, তাদের দেয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সুষ্ঠু হবে নির্বাচন।

প্রবাসী ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে অবশ্য একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে দুই দল। তবে মূল ইস্যুগুলোতে তাদের বিপরীত অবস্থান কীভাবে সমন্বয় হবে সে পরীক্ষায় এখন নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে বরাবরই একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান দেখতে চান বিদেশী কূটনীতিকরা। সকল রাজনৈতিক দল যেন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, সেটাই প্রত্যাশা করে আসছেন তারা। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সহায়তাও দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ আয়োজনের চেষ্টায় ঢাকায় এসেছিলেন তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তিনি সে সময় দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক বৈঠক করে সমঝোতায় আনার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি।