জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) ইনক’র দ্বি-বার্ষিক (২০১৮-২০১৯) নির্বাচনী, সদস্য/ভোটার নবায়ন, সর্বশেষ কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক উপদেষ্টা পরিষদ বাতিল প্রভৃতি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটিতে নতুন সঙ্কট সৃষ্টির পাশাপাশি বিভক্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেবিবিএ’র বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ২০৮জন সদস্য/ভোটার হওয়ার কথা ঘোষণা দিলেও জেবিবিএ’র অনেক সদস্য তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেনি বলে জানা গেছে। এদিকে জেবিবিএ ইনক’র নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারী রোববার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ একটি রেষ্টুরেন্টে ২৭ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষনাকালে জেবিবিএ’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার পারভেজ কাজী বলেন, ২১ জানুয়ারী রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেবিবিএ’র ২০১৮-২০১৯ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বিতরণ (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা), ৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র গ্রহণ (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা), ৫ জানুয়ারী শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাছাই (সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৭টা), ৬ জানুয়ারী শনিবার মনোনয়পত্র প্রত্যাহার (বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা), এবং ৬ জানুয়ারী শনিবার চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ (সন্ধ্যা ৭টা) করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য যথাক্রমে নাজিম উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, রেজা রশীদ ও মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে জেবিবিএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ নেওয়াজ, সহ সভাপতি মোল্লা এ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক তারিক হাসান খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে জেবিবিএ’র কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ২০৮জন ব্যবসায়ী সদস্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন। গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের কাছে এই তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জেবিবিএ সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিগত নির্বাচন জেবিবিএ’র সদস্য/ভোটার ছিলো ২৫৬জন। এদিকে আগামী ২৮ ডিসেম্বর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। জেবিবিএ’র গঠনতন্ত্র মোতাবেক ২৮ ডিসেম্বরের পর উপদেষ্টা পরিষদের কাছে ক্ষমতা চলে যাবে। ফলে উপদেষ্টা পরিষদের নেতৃত্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, জেবিবিএ’র সদস্য পদের জন্য (নতুন/নবায়ন) ২৩১টি আবেদন জসা পড়ে। এসব আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ২০৮টি আবেদন গৃহীত হয় এবং ২৩টি আবেদন বাতিল হয়। আবেদনে ভুল থাকা এবং জ্যাকসন হাইটসে ঠিকানা না থাকায় এসব আবেদন বাতিল হয় বলে জানা গেছে। সূত্র মতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘জেবিবিএ’র মেম্বারশীপ কমিটি’র তিন জন সদস্য আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়ার সাথে ছিলেন না। এরা হলেন ফাহাদ সোলায়মান, মাহমুুর রহমান বাদশা ও মোশাররফ হোসেন। ‘জেবিবিএ’র মেম্বারশীপ কমিটি’র অপর দুই সদস্য মোল্লা এ মাসুদ ও জাকির হোসেন চুড়ান্তভাবে গৃহীত আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্যকরী পরিষদের পক্স থেকে ঐ আবেদনপত্রগুলো (২০৮টি) নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে।

সূত্র মতে, নানা বাদ-প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সদস্য তালিকাভূক্তির কাজ শেষ হলেও অনেক ব্যবসায়ীই নতুন করে সদস্যপদ গ্রহণ করেননি। আবার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের কেউ কেউ সদস্য পদ নবায়ন করেননি বলে জানা গেছে। তাদের মতে শতাধিক ব্যবসায়ী জেবিবিএ’র সদস্য পদ নবায়ন করেননি এবং তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন করাটা সঠিক হবে না বলে তারা মন্তব্য করেছেন। ফলে এনিয়ে জেবিবিএ-তে নতুন সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র মতে, সদস্যপদ নবায়ন না করা ব্যবসায়ীরা ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। ঐদিনের পরই উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে তারা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

সূত্রমতে জেবিবিএ’র আসন্ন নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার গুঞ্জন উঠেছিলো। এক প্যানেলে ছিলেন ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ আর আরেকটিতে ছিলেন ‘দিদার-কামরুল’। কিন্তু জেবিবিএ’র বিভিন্ন কর্মকমান্ডকে কেন্দ্র করে ‘দিদার-কামরুল’ প্যানেল সদস্য-সমর্থকরা নানা অভিযোগ তুলে সুষ্ঠুভাবে সদস্য নবায়ন এবং নির্বাচনের দাবী জানান এবং শেষ পর্যন্ত এই প্যানেলের শতাধিক সদস্য তাদের সদস্য পদ নবায়ন করেননি বলে জানা গেছে। অপরদিকে নবায়নকৃত ২০৮জন সদস্য/ভোটারদের অধিকংশই ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ প্যানেলের সমর্থক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। উল্লেখ্য, ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ প্যানের সভাপতি পদপ্রার্থী জেবিবিএ’র বর্তমান সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ নেওয়াজ এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গত নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাহবুবুর রহমার টুকু। অপরদিকে ‘দিদার-কামরুল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী জেবিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। জেবিবিএ’র বিগত নির্বাচনে ‘জিকো-তারেক’ প্যানেলের বিপরীতে ‘দিদার-কামরুল’ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

এদিকে জেবিবিএ’র কার্যকরী পরিষদের সভায় সংগঠনের বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত/বাতিল করা হয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here