মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ‘ক্রোধ দিবস’ পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। গাজায় হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে দুজন প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। ‘সহিংস দাঙ্গা’ থামাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানিয়েছে তারা।

এছাড়া পশ্চিম তীরের হেবরন, বেথেলহেম ও রামাল্লায় শত শত ফিলিস্তিনি জু্ম্মার নামাজের পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়ে মারেন। জবাবে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী।
জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদের বাইরেও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেছেন।

বাংলাদেশের ঢাকায় বিক্ষোভে জড়ো হয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষ।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেন। ফিলিস্তিনিদের একটি শরণার্থী শিবিরের কাছের রাস্তায় পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছিলেন।

ইরানের তেহরানে সরকারি উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে শত শত মানুষ অংশ নেন। এছাড়া দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম।

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে একটি মসজিদের বাইরে সমবেত হয়েছিলেন তিন হাজারেরও বেশি প্রতিবাদকারী। এই সময় তারা ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছেন, আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছেন। রাজধানী আংকারাসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
জর্ডান, মিশর, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়ও শুক্রবার বিক্ষোভ হয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৩১ জন ফিলিস্তিনি আহত হন।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বলেছেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তবে সরকারকে আরো ‘শক্ত ভাষায়’ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘‘সে যতবড় রাষ্ট্রই হউক না কেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আমরা মানি না, বাংলাদেশ মানে না। এটা আমরা গ্রহণ করি না, এটাকে প্রত্যাহার করতে হবে। এই কথাগুলো বর্তমান সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, আরো জোরেশোরে বলতে হবে। ’’

জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা বিশ্বব্যাপী তার অনুসারীদের যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ও ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল করে তুলছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্রান্সের প্যারিসে লেবানন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন হারিরি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, একক সিদ্ধান্ত কিংবা শক্তিশালী পক্ষ জোর করে তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার সমাধান হবে না।

– ডিডাব্লিউ