বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামকে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগকে হেলায় হারালেন জাতীয় দলে ব্র্যাত নাসির হোসেন। ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে ৩০ রান দূরে থেকেই দিন শেষ করেন তিনি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ দিনে সবার চোখ ছিল তাই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দিকে। নাসিরও এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোই। কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠেও নেমেছিলেন নাসির। তবে মাত্র পাঁচ রানের জন্য ৩০০ রান ছোঁয়া হলো না তার। ২৯৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে তাকে।

তীরে এসে তরী ডুবালেন নাসির

চতুর্থ দিনের শুরুতে বরিশালের বিপক্ষে দ্রুত গতিতেই রান তুলতে থাকেন নাসির। ২৯০ রান পার হওয়ার পর মনে হচ্ছিল রেকর্ডটা হয়েই যাবে। তবে ২৯৫ রানের মাথায় অভিষেক হওয়া লিঙ্কন ডি সঞ্জয়ের বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ফজলে রাব্বির হাতে ক্যাচ তুলে দিলে শেষ হয় ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন।
৬০৩ মিনিট ক্রিজে থেকে খেলেছেন ৫১০ বল। ৩২ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ইনিংস শেষ হয় খানিকটা আক্ষেপ নিয়েই।
এক সময় জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে উঠেছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর জাতীয় ওয়ানডে দলের প্রায় নিয়মিত সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শেষবার লাল সবুজ জার্সি গায়ে মাঠে নামা। একই বছর নভেম্বরে ঢাকায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সঙ্গে টেস্ট খেলার পর থেকে আর জাতীয় দলে নেই রকিবুল হাসান।
এদেশের কোনো ব্যাটসম্যান যা করতে পারেননি কখনো, রকিবুল তাই করে দেখিয়েছেন। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ৩০০+ রানের (৩১৩) ইনিংসটি তার। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান বলতে তাকেই বোঝানো হয়। ২০০৬-২০০৭ মৌসুমে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সিলেটের বিপক্ষে বরিশালের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরিসহ ৩১৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে এখনো রেকর্ড বুকে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছেন রকিবুল হাসান।
এর আগে ২০১২-২০১৩ মৌসুমে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল লিগ বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও পারেননি মার্শাল আইয়ুব। ১১ রানের আক্ষেপে পুড়েন পুরনো ঢাকার মার্শাল। ২৮৯ রানে ফিরে গেছেন।
আরেক মেধাবি তরুণ মোসাদ্দেকের সামনেও এসেছিল ট্রিপল সেঞ্চুরির কৃতিত্ব। কিন্তু জাতীয় দলের এ তরুণ মিডল অর্ডারও পারেননি। ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে বিকেএসপির মাঠে বরিশালের হয়ে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২৮২ রানে আউট হয়েছেন মোসাদ্দেক।
এছাড়া ২০১৩-২০১৪ তে বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের শামসুর রহমান শুভ বিকেএসপি মাঠে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ২৬৭ রানের আরো একটি বড় ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই কাঙ্ক্ষিত ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পাননি।