চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির একাধিক সূত্র আগামী ২২শে অক্টোবর তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দেশে ফিরেই মামলার তোড়ে পড়বেন তিনি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকা এবং কুমিল্লার আদালত এসব পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া একাধিক মামলায় তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে আদালতে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে বিএনপি নেত্রীকে। তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরমধ্যে জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি তরফে এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
আদালতের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সামনের দিনগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে খালেদা জিয়াকে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফর্মুলা প্রকাশ, সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানো, জনমত গঠনে বিশেষ সফর, সম্ভাব্য আন্দোলনের প্রস্তুতি, কমিটি পুনর্গঠন এবং এসব ইস্যুতে নেতাদের আনুষ্ঠানিক মতামত সংগ্রহে দলের বর্ধিত সভা আয়োজন করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি বাংলাদেশ সফরে এলে দেশে ফেরার একদিনের মাথায় তার সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বৈঠকে বসতে হবে। এছাড়া দেশে ফিরেই দলের আগামী দিনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে, কিভাবে হবে- এসব এখনো চূড়ান্ত নয়। সরকার নিজেদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনো অনড়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। দৃশ্যত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। কিন্তু বিএনপিও সে দাবি থেকে সরে আসেনি। তবে কিছুটা নমনীয় অবস্থানে গিয়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আগে কমিশন শক্তিশালী করতে দেয়া প্রস্তাবের সময়ই ‘সহায়ক সরকারের’ ফর্মুলা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সরকার সে প্রস্তাবটিও নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিও দীর্ঘ এ সময়ে সে ফর্মুলা উত্থাপন করেনি। তবে দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী, কিছু বিশিষ্টজন সে ফর্মুলাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে খসড়াও তৈরি হয়েছে। ফলাফল যাই হোক বিএনপি সে ফর্মুলাটি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে উত্থাপন করবে। আর সেটা চূড়ান্ত করতে দেশে ফিরেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে জনমত গঠনের জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। এ জন্য বিভাগীয় শহরগুলো সফর করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এছাড়া, দলের সিনিয়র নেতারা আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াবেন। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতেও নানামুখী প্রচেষ্টা চালু রাখতে হবে। বিএনপি নেতারা জানান, সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও ফলাফল অনুকূলে আনতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প পথে হাঁটতে হলে তার জন্যও প্রস্তুতি দরকার। আবার সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে না সরলে দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না বিএনপির সামনে। আর সেটার জন্য সারা দেশে জনমত গঠনে সাংগঠনিক সফর, পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিএনপিসহ প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমানে দলটির স্থায়ী কমিটির তিনটি পদসহ বেশকিছু পদ শূন্য রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি। আগামী নির্বাচন ও সম্ভাব্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাই বিএনপিকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে হাত দিতে হবে। তবে নেতারা জানান, সে পুনর্গঠন হবে সীমিত পরিসরে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিভেদ-বিভাজনগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। আর কমিটি পুনর্গঠন, জনমত গঠনে সফর, দলের আগামী দিনের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ, সম্ভাব্য আন্দোলন ও নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য নেতাদের মতামত সংগ্রহে আয়োজন করতে হবে দলের বর্ধিত সভা। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বর্ধিত সভাটি ডাকা হতে পারে।