দেশীয় ছবির তুমুল জনপ্রিয় নায়ক জসিম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অ্যাকশন দৃশ্যের প্রবক্তা বলা হয় তাকেই। দেশকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো হয়ে গেল জসিম উৎসব।

এদিন বিকেল পাঁচটায় এফডিসিতে উৎসবটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ছয়টার কিছু পর। শুরু থেকেই অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে সবার। নায়ক জসিম স্মরণে অনুষ্ঠানটি হলেও সেখানে জসিমের পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
একমাত্র উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়িকা অঞ্জনা। যিনি জসিমের সঙ্গে ২৬টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়ও ছিল না কোনো তারকা শিল্পী। মঞ্চে আমন্ত্রিত বক্তাদের অনেককেই ভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। এই বক্তাদের মধ্যে অনেককে নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে আসলে তারা কারা কেন তাদের জসিম উৎসবে অতিথি করা হয়েছে। এ সময় দর্শক সারি থেকে অনেকেই বলাবলি করছিলেন এদের কাছ থেকে কতো টাকার বিনিময়ে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আয়োজকরা।
‘বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রনায়ক জসিম স্মৃতি একাডেমি’ নামে একটি সংগঠন এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। আর এই সংগঠনটির সভাপতি সোহেল হক। নিম্নমানের অনুষ্ঠানটির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রি করে বহিরাগতদের এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রয়াত তারকা শিল্পী জসিমকে নিয়ে এ ধরনের নিম্নমানের অনুষ্ঠান কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান ভবিষ্যতে আমরা বন্ধ করে দিব। জসিম ভাইকে নিয়ে অনুষ্ঠানে আমি এবারই প্রথম গিয়েছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল অনুষ্ঠানে জসিম ভাইয়ের স্ত্রী থাকবেন। আরো অনেক শিল্পীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রথমে আমি যেতেই চাইছিলাম না। পরে সবার রিকুয়েস্টে জসিম ভাইয়ের সন্মানের দিকে তাকিয়ে সেখানে যাই। অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর সব দেখার পর আমি স্টেজেই বলে দিয়েছি এটা কোনো অনুষ্ঠানের মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের অনুষ্ঠান আমরা সমর্থন করি না। শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এরকম কোনো অনুষ্ঠান কোনো শিল্পীর নামে এফডিসিতে হতে দেবো না। বিশেষ করে নায়ক জসিম নায়ক মান্না, নায়ক সালমান শাহ তাদের মতো গুণী শিল্পীদের নামে এফডিসিতে কোনো অনুষ্ঠান করতে হলে শিল্পী সমিতির অনুমতি নিতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়ক জসিম ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন। তবে দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে পরিচিতি পান। প্রায় ৩০০ ছবিতে অভিনয় করা এই অভিনেতা ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here