শান্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ওফাতের মাস রবিউল আউয়াল মাস। এ মাসের ১২ তারিখ তিনি জন্মগ্রহণ করেন, আবার তার মোবারক জীবনের অবসানও হয় ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে। তিনি আল্লাহতায়ালার প্রেরিত সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল। রাহমাতুল্লিল আলআমিন।
প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)এর মাধ্যমে শুরু হওয়া নবুওয়তের সিলসিলা হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে, পূর্ণতা পেয়েছে দ্বীন ইসলামও। পরিপূর্ণ হয়েছে আল্লাহতায়ালার হুকুম আহকাম মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার দাওয়াতি মিশন।
দুনিয়া যখন জাহিলিয়াতে ছেয়ে গিয়েছিল, তখন পৃথিবীর কেন্দ্র স্থান আরব ভূমিও অন্যায়-অবিচার আর বর্বরতায় পরিপূর্ণ ছিল। ঈসা নবীর আ: শিক্ষাও মানুষ ভুলে, খুনখারাবি, রাহাজানিসহ হাজারো অনাচারে নিমজ্জিত ছিল। এমন এক ক্রান্তিকালে পুরো দুনিয়ার হেদায়াতের জন্য আল্লাহ আমাদের নবী সা:-কে রাহমাতুল্লিল আলামিন করে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে, সারা বিশ্বের সব মানুষের ত্রাণকর্তাস্বরূপ পৃথিবীর কেন্দ্রীয় ভূমি মক্কায় প্রেরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি’।
৬৩ বছর নবুয়াতি দায়িত্ব সুনিপুণভাবে রাসূল সা: পালন শেষে তার অনুসারী এবং মুক্তিকামী, শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য বিরাট ইসলামি রাষ্ট্র এবং তার পরিচালনার জন্য কুরআন-সুন্নাহর সংবিধান ও গাইডলাইন রেখে, ১২ রবিউল আওয়াল উম্মতদের শোকসাগরে ভাসিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আর বলে যান, ‘আমি তোমাদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ এই দুটিকে আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ তোমরা (সুখ, শান্তি ও জান্নাতের) পথ থেকে বিচ্যুত হবে না। তার একটি হলো- আল্লাহর কিতাব, অন্যটি হলো- আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ (আল হাদিস)।
প্রিয় নবী সা: কিভাবে ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করেছেন, কিভাবে ইবাদতবন্দেগি করেছেন, সামাজিক বিষয় কিভাবে সমাধান দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে কী করেছেন এবং কী নির্দেশনা দিয়েছেন, তা জানা এবং মানা প্রতিটি উম্মতের জন্য ফরজ। সব ব্যাপারে প্রিয় নবী সা:-এর নীতিমালার বাস্তবায়নই মুসলমানদের কাছে আজকের এই দিবসের দাবি। এর উল্টা চলা, এর বিরোধিতা করা, এ পথে যারা চলে বা চলতে বলে, তাদের পথে বাধা সৃষ্টি করা ইমানি দায়িত্ব।
প্রিয় নবী সা:-এর ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নীতিমালাকে সর্বস্তরে, রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে মানবতার ইহকালীন সুখ শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করে, প্রিয় নবীর সা: নেতৃত্বকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, ‘তিনি তার রাসূলকে সা: প্রেরণ করেছেন সব ধর্ম, মতবাদের ওপর ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যদিও শিরককারীরা এটা পছন্দ করে না’ (সূরা ছফ, আয়াত নং-০৯)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here