জোড়া ইতিহাস গড়ে উইম্বলডনের শিরোপা জিতে নিয়েছেন রজার ফেদেরার। রোববার ফাইনালে মারিন সিলিচকে হারিয়ে একমাত্র টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে অষ্টম উইম্বলডন শিরোপা জেতেন সুইস কিংবদন্তি। এক ঘণ্টা ৪১ মিনিট লড়াইয়ের পর আসা জয়ে উইম্বলডনের ‘অমরত্ব’ পেয়ে গেলেন সেন্টার কোর্টের অবিসংবাদিত রাজা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিলেন ফেদেরার। তার উপর একের পর এক ভুল করতে থাকেন ক্রোয়েশিয়ান সিলিচ। দ্বিতীয় সেটে হালকা আহত সিলিচকে চিকিৎসাও নিতে হয়। এই সুযোগে প্রথম দুই সেটেই লিড নিয়ে ম্যাচটা হাতের মুঠোয় পুরে নেন ফেড-এক্স। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতেন ৬-৩, ৬-১ ও ৬-৪ গেমে।

ফাইনালে পৌঁছেই একটি রেকর্ড প্রায় সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন ফেড-এক্স। সবচেয়ে বেশি ২৯ বার গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে পা রাখার কীর্তি শুধু সুইস কিংবদন্তির। আগে থেকে সবচেয়ে বেশি ১৮টি গ্র্যান্ডস্লাম জেতার রেকর্ড তো আছেই। এবার সেটা হয়ে গেল ১৯!

সঙ্গে সবচেয়ে বুড়ো বয়সে উইম্বলডন জেতার রেকর্ডটাও বগলদাবা করলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টেই কোন সেট হারেননি ৩৬ ছুই ছুঁই ফেদেরার।

২০০৩ সালে উইম্বলডনেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছিলেন ফেদেরার। পরের চার আসরে টানা জয়। ২০০৯ সালে আবারো হাসিতে ফাইনালের কোর্ট ছাড়া। আর ২০১২ সালে এসেছিল সপ্তম শিরোপাটি।

চোট-পুনর্বাসনে ছয় মাস কাটিয়ে কোর্টে ফিরেই যে ঝলক দেখাচ্ছেন, তাতে সামনে আরো দারুণ কিছুই নিশ্চয় অপেক্ষা করছে। চলতি বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনও জিতেছিলেন। পরে দুটি মাস্টার্স শিরোপাও।

উচ্ছ্বসিত ফেদেরার শেষে কোর্টেই চোখের পানি ঝরিয়েছেন আনন্দে। পরিবার ও দলকে চমৎকার এক মুহূর্ত উপহার দেয়ার স্বস্তি ছিল তার কণ্ঠে। উইম্বলডন ও সুইজারল্যান্ডকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গ্যালারি যখন ফাঁকা হতে শুরু করেছে, তখন দুই জোড়া যমজ সন্তানের বাবা রাজমুকুট হাতে সন্তানদের নিয়ে মজা করতে করতেই মাঠ ছেড়েছেন।