প্রশ্ন : প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি একজন মুসলমানের কেমন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত?
উত্তর : কিবলা মানেই সম্মানের একটি প্রতীক। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের পরে ১৬ মাস পর্যন্ত এবং এর আগেও বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করেছেন। যেহেতু সেটি আমাদের পূর্বপুরুষদের কিবলা, তাই আমাদেরও কিবলা। কিবলা হিসেবে এটির সম্মান কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকবে। এই কিবলার প্রতি একটা টান, দরদ ও মায়া থাকবেই। অতএব এই কিবলা ও তার আশেপাশের জায়গুলোর অবমাননা হলে মুসলমানদের কষ্ট লাগবেই। মিরাজের দিন আল্লাহ তায়ালা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বায়তুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করিয়েছেন। শুধু এদিকে ফিরে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করেছেন তাই নয়, মিরাজের সেই রাতে আল্লাহ তায়ালা আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সকল আম্বিয়াকে এখানে একত্রিত করেছিলেন। তাঁরা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইমামতিতে নামাজ আদায় করেছিলেন। এটিই পৃথিবীর একমাত্র মসজিদ, যেখানে সকল আম্বিয়া একত্রিত হয়েছেন এবং নামাজ আদায় করেছেন।

বনি ইসরায়েল জাতি শুরু থেকেই বক্র কিসিমের

প্রশ্ন : বায়তুল মুকাদ্দাসে অনেককে বিশৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে সাধারণ মুসলমান ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
উত্তর : বায়তুল মুকাদ্দাস, ফিলিস্তিন ও আল আকসা মসজিদ নিয়ে যা হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে গর্হিত এবং জঘন্য থেকে জঘন্যতম কাজ। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোনো অন্যায় বা গর্হিত কাজ করে, তবে মুসলমানদের শক্তি তা প্রতিরোধ করতে হবে। তা না হলে জবানের মাধ্যমে। প্রথমটি যদি আমরা না পারি, তবে লেখনী, বক্তৃতার মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করতে হবে। সর্বনিম্ন হচ্ছে অন্তর থেকে তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণা প্রকাশ করা। এমনটি করতে পারলেই আমরা ইমানের মধ্যে থাকতে পারব। এই ধরনের ঘটনাতেও যদি মুসলমানের মনে ঘৃণার ধিক্কার না আসে, তবে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথামতো তার ইমান থাকবে না।
প্রশ্ন : মোজা পরে অজু করার সময় পা না ধুয়ে মোজার ওপর পানি ঢালা যাবে কী?
উত্তর: মোজার ওপর মাসেহ করার একটা বিধান আছে। তবে এই বিষয়ে দুটো মত আছে। যদি চামড়ার মোজা হয়, তবে তার ওপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে কোনো মতানৈক্য নেই। আর যদি চামড়ার না হয়, তবে ওই মোজার ওপর পানি ঢালার নিয়ম নেই। যদি অজু করা অবস্থায় মোটা মোজা পরা হয়, তবে মাসেহ করতে পারবে।
প্রশ্ন : শীতের মধ্যে কেউ যদি চামড়ার মোজা ব্যবহার করে, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাসেহ করা যাবে কী?
উত্তর : এটা শীতের সঙ্গে জড়িত না। যদি কেউ হালকা শীতেও অজু করে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করে তাহলে চলবে। আমাদের দেশের মুসলমানরাও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মাসেহ করে চলতে পারবেন।
প্রশ্ন : ফজরের সময় যদি ঘুম না ভাঙে এবং সকাল নয়টাই ঘুম ভাঙে, তবে ফজরের নামাজ আদায়ের হুকুম কী?
উত্তর : যদি কেউ গাফিলতি করে, টেলিভিশন দেখে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে ভোরে ঘুমায় এবং এই কারণে ফজরের নামাজ আদায় করতে না পারে, তবে তিনি নিঃসন্দেহে গোনাহগার হবেন। কিন্তু কেউ যদি স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুমিয়েছেন এবং ফজরের সময় না জাগতে পারেন, তবে যখন তিনি জাগবেন, তখনই তাকে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি নামাজের কথা ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে থাকে, তবে যখন তার মনে পড়বে বা তার ঘুম ভাঙবে তখনই যেন নামাজ আদায় করে। এতে তার নামাজ কাজা হবে না।
প্রশ্ন : বনি ইসরায়েলদের মাঝে আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বেশি নবী পাঠিয়েছেন। যে জাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নবী পাঠানো হলো, সেই জাতির অবস্থার পরিবর্তন এখনো কেন হলো?
উত্তর : ইসরায়েল জাতিটা শুরু থেকেই বক্র কিসিমের ছিল। তাই আল্লাহ তায়ালা বেশি নবী পাঠিয়েছেন। যেখানে অন্ধকার, সেখানেই কিন্তু আলোর প্রয়োজন পড়ে। তারা নবীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, তারা নেককারদের হত্যা করেছে। আল্লাহর সরাসরি সহযোগিতা ও নেয়ামত পাবার পরও তারা নাফরমানি করেছে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে অন্য জাতির ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা নিজেরাই তাদের অবস্থা খারাপ করেছেন। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়। সাদা ভাত একটু পচে গেলেও তা পানিতে ধুয়ে খাওয়া যায় কিন্তু বিরিয়ানি একটু পচলেই তা আর খাওয়া যায় না। বনি ইসরায়েলদের আল্লাহ তায়ালা অনেক মর্যাদা দিয়েছিলেন। তাই তাদের অবস্থা এখন অনেক খারাপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here