টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতেও নির্বিষ বোলিংয়ের ধারা বজায় রেখেছেন বাংলাদেশ বোলাররা। আগের মতো এই ম্যাচেও এর পুরোপুরি ফায়দা লুটলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটসম্যানরা। তাসকিন-শফিউলদের বল চিড়েচ্যাপ্টা করে ১৯৫ রানের পাহাড় গড়েছে প্রোটিয়ারা। এখন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা সেই পাহাড় কতটুকু টপকাতে পারেন তাই দেখার।
বৃহস্পতিবার ব্লুমফন্টেইনে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক জেপি ডুমিনি। ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। ওয়ানডেতে দুর্দান্ত হলেও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তাদের সূচনাটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৮ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আমলা (৩)।
ডানহাতি এই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও ক্রিজে এসে ঝড় তুলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তাতে যোগ্য সমর্থন যোগান ডি কক। তাদের ব্যাটে ছুটে রানের নহর। উল্কার গতিতে ছুটে চলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বাংলাদেশ বোলারদের কচুকাটা করতে করতে হঠাৎই থেমে যান ডি ভিলিয়ার্স। তাকেও থামান ‍মিরাজ। দলীয় ৯৭ রানে তার বলে ছক্কা মেরে ফিফটি করতে গিয়ে লং অফে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত ব্যাটসম্যান (৪৯)।
ডি ভিলিয়ার্স যে ঝড় তুলে গিয়েছিলেন তাতে গা ভাসাতে গিয়ে অল্পতেই ফেরেন জেপি ডুমিনি। দলীয় ১২২ রানে সাকিব আল হাসানের বলে লং অফে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক (১৩)।
এরই মধ্যে সাকিবকে বিশাল ছক্কা মেরে ফিফটি স্পর্শ করেন ডি ভিলিয়ার্সের তাণ্ডবে খানিকটা আড়ালে পড়ে যাওয়া ডি কক। এটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় পঞ্চাশ। অবশ্য ফিফটি পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি বাঁহাতি ওপেনার। ব্যক্তিগত ৫৯ রান করে রিভার্সসুইং তারকা রুবেল হোসেনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন তিনি।
ফেরার আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রানের মহাসড়কে রেখে যান ডি কক। সেই সড়কে শেষদিকে দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়েছেন ডেভিড মিলার ও ফারহান বেহারদিন। তাদের টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় টাইগার বোলিং অ্যাটাক। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ১৯৫ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। কিলার খ্যাত মিলার ২৫ ও নির্ভরতার প্রতীক বেহারদিন ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
এদিন বাংলাদেশের সেরা বোলার মিরাজ। তার শিকার দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটসম্যান। একজন করে ব্যাটসম্যান শিকার করেন সাকিব ও রুবেল।