মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কূটনীতিকরা বলছেন, ওই বৈঠকে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ফ্রান্স, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো চার দেশের অনুরোধে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে বাঁচতে গত এক মাসে নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। এছাড়া গত সপ্তাহে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো ওই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

গত ২৫ আগস্ট বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। তারপরই দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতা শুরু হয় রাখাইনে। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

নিরাপত্তা পরিষদের চার অস্থায়ী সদস্য দেশ মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল এবং সুইডেনও জরুরি বৈঠকের জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানিয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের ১৩ তারিখে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ওই বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।