নিউইয়র্কে উলামা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি আল্লামা জালাল সিদ্দিক বলেছেন, যারা ইসলামের নামে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে তারা মুসলমান হতে পারে না। ইসলামের দুশমনরা মুসলমানের বেশ ধরে মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য এসব জঘন্য কাজ করছে। এসব নামধারী মুসলমানদের হাত থেকে মসজিদও রেহাই পাচ্ছে না। মুসলিম জাহানসহ সমগ্র মানবতাকে বিপন্ন করে তুলেছে মুসলমানদের এসব দুশমনরা। তিনি গত ২ ডিসেম্বর শনিবার রাতে জ্যাকসন হাইটস পালকি পার্টি হলে উলামা সোসাইটি ইউএসএ আয়োজিত আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এদিন যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) এর তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা, মিলাদ মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।উলামা সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়ার পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, পার্কচেস্টার জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, ইসলামী ইংলিশ স্পীকার হাফিজ মাওলানা ওয়াহি আহমেদ চৌধুরী, আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউএসএ’র সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমদ, মাওলানা মহাফিজ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুস শুকুর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নাতে রসুল (সা.) পরিবেশন করেন ইস্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদের ইমাম-খতীব হাফিজ মাওলানা আবদুল কায়্যূম।আল্লামা জালাল সিদ্দিক কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, হযরত মুহম্মদ (সা.) ছিলেন শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তা মূর্ত প্রতীক ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’। বিশ্বজগতের শান্তির দূত হিসেবে বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে প্রেরীত হয়েছেন তিনি। হত্যা-সন্ত্রাস নয়, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মহানবী (সা.) শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবী (সা.) এর প্রকৃত আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই আজকের উত্তপ্ত-অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।আল্লামা জালাল সিদ্দিক আরো বলেন, বর্তমানে তথাকথিত একশ্রেণীর আলেম ঈদে মিলাদুন্নবীসহ রাসুল (সা.) এর শানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনকে কেন্দ্র করে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এমনকি পবিত্র কালেমা শরীফকে নিয়েও তারা বেদাতি ফতোয়া দিচ্ছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (সা.) কে তারা সাধারণ মানুষেল সাথে তুলনা করারও ঔদ্ধার্ত দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, নবীজীর সুন্নত অমান্যকারীরা কাফের। এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমল-মসআলা-ফতোয়ার বাড়াবাড়ি, বিভেদ-বিভ্রান্তিকারীদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ঈমান থাকবে না। এ ধরনের বিভেদ-বিভ্রান্তিকারীদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে আল্লামা জালাল সিদ্দিক বলেন, ইসলামের শান্তি ও সহমর্মিতার প্রকৃত শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা সম্ভব।অন্যান্য বক্তারা বলেন, মহান আল্লাহপাক রাসুল (সা.) কে সবার ওপরে মর্যাদা প্রদান করেন। স্বয়ং আল্লাহ পাক ও তার ফেরেশতারা মহানবীর প্রতি দুরুদ ও সালাম পেশ করেন। মহানবী (সা.)-কে সৃষ্টি করা না হলে মহান আল্ল¬াহ পাক কিছুই সৃষ্টি করতেন না। প্রকৃত মুমিন হতে হলে প্রিয় রাসূল (সা.) কে অধিক ভালবাসতে হবে। মহানবী (সা.) এর পরিপূর্ণ অনুসারী না হলে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে না।
কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত পথে চলার মধ্যেই নিহীত রয়েছে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি।বক্তারা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী হচ্ছে সব চেয়ে বড় ঈদ। সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবার নির্ভরযোগ্য অকাট্য দলিলাদি রয়েছে। প্রকৃত দ্বীনি ওলামায়ে কেরামদের এটি একটি সুপ্রমাণিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মু’মিনদের জন্য একটি অত্যন্ত সৌভাগ্যম-িত বিষয়। সৌদী আরবেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
উলামা সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া মহান আল্লাহ্র অশেষ রহমত কামনায় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে অংশ গ্রহণ করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।অনুষ্ঠানে মিলাদ মাহফিলসহ মুসলিম উম্মাহ, বিশ্ব মানবতার শান্তির জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মুনাজাত করা হয়। পরে এশার নামাজ শেষে মুসল্লীদের তবারুকে আপ্যায়ন করা হয়। মাহফিলে উলামা সোসাইটি ইউএসএ’র সদস্যরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক মুসল্লী অংশ গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here