মিডিয়াতে কাজ করছেন বহু বছর ধরে। তবে ইদানীং ‘বড় ছেলে’র বাবা হিসেবেই অভিনেতা খালেকুজ্জামানকে লোকজন বেশি চেনে। মূলত চ্যানেল নাইনে গত ঈদে প্রচারিত ‘বড় ছেলে’ নাটকটির অসামান্য দর্শক জনপ্রিয়তাই খালেকুজ্জামানকে এই পরিচয়ে পরিচিত করেছে। এতে তিনি ‘বড় ছেলে’ অপূর্বর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

বড় ছেলের বাবা হিসেবে কেমন রেসপন্স পেলেন?
আমি ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে বিটিভিতে প্রচারিত মামুনুর রশীদের ‘সময়-অসময়’ নাটকটিতে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলাম। এরপর এনটিভিতে প্রচারিত ‘নীড়’ নাটকে অভিনয় করেও বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলাম। তবে এবার ‘বড় ছেলে’ নাটকটির দর্শক রেসপন্স যা পেয়েছি তা আর বলে শেষ করা যাবে না। একটি ছোট ঘটনা বলি। কিছুদিন আগে আমার বাড়ি নরসিংদীতে গিয়েছিলাম। বাস থেকে নেমেই আশপাশের মানুষদের মধ্যে আমার দিকে তাকানোর মাঝে ভিন্নতা খুঁজে পেলাম। অথচ এমন না যে, এখানে আমি প্রথম এসেছি। কয়েকজন তো বলেই ফেললেন, আপনি বড় ছেলের বাবা না? অর্থাৎ বড় ছেলের বাবা নামেই আমার পরিচিতি হয়ে গেল। যে ক’দিন নরসিংদীতে ছিলাম প্রায় সময়ই বাসাতে মানুষজনের ভিড় লেগেই থাকত। সবাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চান, কথা বলতে চান। এমনকি একটা ব্যক্তিগত কাজে যখন জেলা প্রশাসকের অফিসে গেলাম, তখন সেখানকার লোকজনও কাজ বন্ধ করে আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। মোটকথা বহুদিন পর কোনো নাটকে অভিনয় করে অনেক বেশি রেসপন্স পেয়েছি।

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর অনেক দিন বাদে আমাদের দেশে কোনো নাটক এত জনপ্রিয়তা পেল। বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
‘বড় ছেলে’ নাটকটিকে দর্শকপ্রিয় করার মূল কারিগর নাটকটির নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান। এ নাটকটির জনপ্রিয়তার ফলে অনেক মানুষও আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা বহুদিন বাদে বাংলা নাটক দেখলেন। একজন তো বলেই বসলেন ‘বড় ছেলে’ নাটকটি দেখে এতই ভালো লেগেছে যে, ঈদে প্রচারিত আরো ৬০-৬৫টি নাটক তিনি দেখেছেন।

তাহলে বলা যায়, মানুষজন আবারো দেশীয় নাটক দেখা শুরু করেছে। এটাকে ধরে রাখার জন্য কি করা দরকার বলে মনে করেন?
পরিচ্ছন্ন এ জাতীয় গল্পনির্ভর নাটক নির্মাণ করতে হবে। বিশেষ করে পরিবারনির্ভর নাটক নির্মাণ করতে হবে। আমরা ভারতীয় চ্যানেলের নাটকের এত সমালোচনা করি। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে তাদের প্রায় সব সিরিয়ালের গল্পই কিন্তু পরিবারনির্ভর। ওখানে কিন্তু গল্প তেমন কিছুই থাকে না। তবে যেহেতু গল্প পরিবারনির্ভর, তাই সেগুলো জনপ্রিয়তা পায়। আমাদেরও নাটকের গল্পের ক্ষেত্রে পরিবারকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মিডিয়াতে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রাপ্তি বা ক্ষোভের জায়গাটি বলুন।
আমার যেটা সবচেয়ে দুঃখ লাগে সেটা হলো, প্রায় সময়ই যখন আমার অভিনীত কোনো নাটকের নিউজ কোথাও ছাপা হয়, তখন সেখানে আমার নামটা আসে না। কিন্তু আমিই বাংলাদেশে প্রথম নাটকের ওপরে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করা ব্যক্তি। আবদুল্লাহ খালেদসহ আমরা কয়েকজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারু ও নাট্যকলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। এ ছাড়া আমি কেবল অভিনেতাই নই, একজন মুক্তিযোদ্ধাও। কিন্তু সম্মানের জায়গাতে এখনো যখন ঘাটতি দেখি তখন স্বাভাবিকভাবে দুঃখবোধ হয়। আর দীর্ঘদিন মিডিয়াতে কাজ করে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি এটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।

বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? এছাড়া কোন চলচ্চিত্রে কাজ করছেন?
অভিনয়ের মানুষ, অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত। বর্তমানে খন্ড ও ধারাবাহিক নাটকের কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। আর হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে ‘দেবী’ ছবিতে কাজ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here