আমি যা বিচার করেছি, তা প্রতিফলিত হয়নি। আমি যে মার্কশিট দিয়েছি, সেটা গ্রহণ পর্যন্ত করা হয়নি। যদি তারা নিজেরাই এমনভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে, তাহলে কেন বিচারক হিসেবে আমাকে রাখলো। শুধু আমি না, যতটুকু জানতে পেরেছি বেশির ভাগ বিচারকের মার্কশিট নেয়া হয়নি।’
গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ গ্র্যান্ড ফিনালে সম্পর্কে শনিবার রাতে এসব কথা বললেন আয়োজনের বিচারক শম্পা রেজা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নাচ পরিবেশন করেন উপস্থাপিকা শীনা চৌহান। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জান্নাতুল নাঈম অভ্রিলকে। আসছে ১৮ নভেম্বর মিস ওয়ার্ল্ডের ৬৭তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। এছাড়া প্রথম রানার্স আপ হয়েছেন জেসিয়া ইসলাম এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ জান্নাতুন সুমাইয়া হিমি।
প্রায় ২৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে গ্র্যান্ড ফিনালে উঠে আসা ১০ প্রতিযোগীর মধ্যে বিচারকরা চূড়ান্ত বিজয়ীকে ঘোষণা করেন। গ্র্যান্ড ফিনালে উঠে আসা ১০ প্রতিযোগীর নাম হলো রুকাইয়া জাহান চমক, জান্নাতুল নাঈম অভ্রিল, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম তিফা, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা রানী দত্ত, ফারহানা জামান তন্দ্রা, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি এবং জেসিয়া ইসলাম।
গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক হিসেবে ছিলেন অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ, যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল।
জমকালো পরিসরে ওইদিন রাত ৮টার কিছুক্ষণ পর রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে পর্দা উঠে ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ২০১৭ এর গ্র্যান্ড ফিনালের।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার স্বপন চৌধুরী ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উপস্থাপিকা শীনা চৌহান ঘোষণা করেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির নাম।
মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো হল রুম। কিন্তু এ উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ করেই স্বপন চৌধুরী বলেন, লিস্ট যেটা হয়েছে সেটা একটু ভুল হয়েছে। উইনার হবেন ‘জান্নাতুল নাঈম’। প্রথম রানার্স আপ হিসেবে জেসিয়ার নাম ও দ্বিতীয় রানার্স আপ হিসেবে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির নাম ঘোষণা করেন তিনি।
এসময় যেমন বিজয়ের মুকুট নিয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে জান্নাতুল নাঈমকে। অন্যদিকে ভুল ঘোষণা হওয়া হিমির চোখে জল ছিল। দর্শকরাও এমন ভুলে হতাশ হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ কি ফলাফল ঘোষণায় ভুল নাকি সাজানো নাটক করে পছন্দের প্রার্থীকে জেতানো হলো?
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা ।
এদিকে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি বলেন, আমি আর কি বলবো। এই অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল উপস্থাপিকার। যদি তিনি ভুল করে থাকেন তাহলে নিজেই ভুলটা শুধরে নিতেন। এমন ঘটনা বাইরের দেশের অনেক প্রতিযোগিতায়ও দেখা গেছে। কিন্তু আয়োজকদের মধ্যে থেকে কেউ এসে ঘোষণা দেবেন এটার উত্তর আপনাদের কাছেই জানতে চাই।
হিমি আরো বলেন, যদি ১৯ আর ২০ হতো তাহলে একটা কথা থাকে। আমার পারফর্মেন্স উপস্থিত সবাই দেখেছেন। এ নিয়ে তো আলোচনা চলছেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দর্শকরা দেখেছেন কে কেমন পারফর্ম করেছে।
মিডিয়া বোদ্ধারা বলছেন, এভাবে আয়োজকদের কোনো অনুষ্ঠানে ফলাফলকে প্রভাবিত করা বিরাট অন্যায়। বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতার আসরে যোগ্যপ্রার্থীকেই বিচারকদের পছন্দ মতো নির্বাচন করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হতো। প্রভাবিত ফলাফলে যদি যোগ্যপ্রার্থী মূল পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারে তবে সেটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।
‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট।
বিতর্কিত প্রসঙ্গ নিয়ে অন্তর শোবিজের কর্ণধার স্বপন চৌধুরীর সঙ্গে শনিবার রাতে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিযোগীদের একজন জান্নাতুল সুমাইয়া অন্যজন হলেন জান্নাতুল নাঈম। উপস্থাপিকা নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আরেক জান্নাতুল দেখি সামনে চলে যাচ্ছে। আমি তো একজন আয়োজক। সেই জায়গা থেকে আমি ভুলটাকে শুধরে দেয়ার কাজটি করেছি।
স্বপন চৌধুরী আরো বলেন, যারা নম্বর দিয়েছেন তারা একেক জনকে একেক রকম নম্বর দিয়েছেন। সবাই তো আর একজনকে ১০ করে নম্বর দেবেন না। প্রতিযোগীদের একেকটি পারফর্মেন্সের ওপরে এই নম্বর দিয়েছেন তারা। সবার নম্বর বিবেচনা করেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার মিডিয়াতে ক্যারিয়ার ৩০ বছরের। সব সময় স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত কোনো কিছুতেই আমার কমতি নেই। খারাপ কিছু বলার মতোও নেই। আমার যদি কাউকে পার্সোনালভাবে নির্বাচিত করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে তো আমি শম্পা রেজা, জুয়েল আইচসহ গুণী বিচারকদের রাখতাম না। আমি জানি না কে কি বলছেন। আমার উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু যা হয়েছে সেটি দুর্ভাগ্য। কারণ সবাই নেগেটিভ জিনিসটা বেশি পছন্দ করেন।