ভ্রমণকারীরা গন্তব্যের শীর্ষ তালিকায় কেন যে ওমানকে বেছে নেন না, তা অনেক পর্যটকই বোঝেন না। সেখানকার আতিথেয়তা, সংস্কৃতি, বিস্ময়কর স্থপত্যশৈলী, ছবির মতো স্থান, মনোমুগ্ধকর সৈকত এবং খাবার যেকোনো মানুষকে ভালোলাগায় মোহিত করবে। যারা একবার গেছেন, তাদের মুখে ওমানের সৌন্দর্য আস্বাদনের বয়ান কখনো শেষ হবার নয়।

কেবল পর্যটকদের দিক থেকেই নয়, দেশটির জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই বিদেশি। তাদের অধিকাংশের আগমন ঘটেছে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত এবং পাকিস্তান থেকে। যান্ত্রিক চলাফেরা আর সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যাচার থেকে জীবনটাকে বিষমুক্ত করতে আদর্শ গন্তব্য হতে পারে ওমান। মুসকাট এবং এর কাছের নিজওয়া, আল হামরা, বাহলা এবং সুরের মতো উত্তর-পূর্বের শহরগুলো অনন্য রূপ আপনার দু’চোখ ঝলসে দেবে।

গাড়িতে চড়ের পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে গেলে আপনার রোলার-কোস্টারে ওঠার প্রয়োজন হবে না। কিছু পিচ্ছিল ঢালু রাস্তা ভীতিকর অনুভূতি দেবে। উটের পিঠে চড়া, বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরি, কোয়াড বাইকে চড়ে মরুভূমি দর্শন ইত্যাদি কাজের কথা এ জীবনে ভোলার নয়।নওমানের পাহাড়-পর্বত যেন সব সময় হাসছে।

আপনার মনটাই ভালো হয়ে যাবে। বিশেষ করে তীব্র গরমে এই পর্বতগুলোই হয়ে ওঠে অনাবিল শান্তির আধার। বিশেষ করে রোমান্টিক মানুষদের জন্যে ওমান কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত এক স্থান। সেখানে আছে ডায়ানাস পয়েন্ট। এই স্থানের নামকরণ হয়েছে প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়নার নামে। এর অবস্থান গ্রিন মাউন্টেনের আনানতারা আল জাবাল আল আখদার রিসোর্টে। জুটিদের জন্য আদর্শ এক স্থান। যদি পানি আপানার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয় তো চিন্তা নেই। বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন সৈকত রয়েছে। গাঢ় সবুজ জলাধার রয়েছে যেখানে ডুব দেওয়ার ইচ্ছা কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। শাংরি-লা রিসোর্টে দেখা মিলবে খেলুড়ে ডলফিনের।

পর্বত আর সাগর ছাড়াও এর স্থপত্যশৈলী অসংখ্য পর্যটকের মন হরণ করেছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের তো বটেই, কিন্তু বিস্ময়কর নমুনার দেখা মেলে। বিশেষ করে সুলতান কুবোস গ্র্যান্ড মস্ক এবং রয়ার অপেরা হাউজ দেখলে বাকরুদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

ভোজনরসিকদের জন্যে পছন্দের স্থানের অভাব নেই। ওমানের স্থানীয় খাবারগুলোই যেকোনো মানুষের রসনা তৃপ্তির জন্যে যথেষ্ট। আপনি এখানে পাতা খাবারের পরিমাণ দেখে ভিড়মি খাবেন। এরা খাবারের ক্ষেত্রে ‘রাজকীয় পরিমাণ’-এ বিশ্বাসী।

পকেটের সব অর্থ স্থান দর্শন আর খাবারের পেছনে ব্যয় না করলে মুতরাহ সক এবং আরো কিছু শপিং সেন্টারে চলে যেতে পারেন। আর যাই করেন না কেন, খেঁজুরের কথা অবশ্যই ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here