ইংরেজরা ১৯২১ সালে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপনা ও ঐতিহ্য তাজমহল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাই তাজমহল ভাঙ্গার প্রতিবাদ করেছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি দেশ-বিদেশে বক্তব্য দেন ও জনমত গড়ে তোলেন। এ নিয়ে আমেরিকায়ও তিনি বক্তব্য রাখেন। যার ফলে পৃথিবীর অসাধারণ সৌন্দর্যময় স্থাপনা তাজমহল রক্ষা পায়।

আজ বিকেলে বাংলা একাডেমিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট স্থপতি, রবীন্দ্র গবেষক ও পরিবেশবিদ অরুনেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পরিবেশ, নির্মাণ সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক বিশেষজ্ঞ বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এই বক্তৃতা তার সঙ্গে যুক্তভাবে উপস্থাপন করেন শ্রীমতি সুদেঞ্চা বন্যোপাধ্যায়। ‘
কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি,শান্তিনিকেতনসহ রবীন্দ্রনাথদের স্থাপত্যসমূহে দশ বছর কাজ করেছি’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঠাকুরবাড়ির স্থাপত্যকর্মে রবীন্দ্রনাথ নতুনত্বের নিদর্শন রেখেছেন। স্থাপত্য শিল্প ও নির্মাণ সংস্কৃতি গড়তে কবির মতো এতো বিশালকর্ম আর কোথাও দেখা যায় না। শান্তি নিকেতনের স্থাপনাই বড় প্রমাণ।

শান্তি নিকেতনে বাড়িঘর-ভবনগুলোর কথা উল্লেখ করে স্থপতি অরুনেন্দু বলেন, রবীন্দ্রনাথের গাথা ছোট ছোট মালা দেখতে পাই সেখানে।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘একদিন আমি মাটি হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যাবো। ’ কবির এই আকাংখা শান্তি নিকেতনসহ পতিসর, শিলাইদহ,শাহাজাদপুরে এবং জোড়াসাঁকোর নির্মিত স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আয়োজিত এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্দ্রণালয়ের সচিব মো: ইব্রাহিম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি ইরেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। পরে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাদেরি কিবরিয়া।

সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাসাহিত্য ও বাঙালিদের পৃথিবীতে পরিচিত করেছেন। কবি তার সমগ্র রচনায় অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জমান বলেন, এতোকাল আগে কবিগুরু তার নানা স্থাপত্যকর্ম করেছেন, নির্মাণশৈলিতে এগুলো আজও আধুনিক এবং পরিবেশেবান্ধব। শান্তি নিকেতন শুধু নয়, শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের স্থাপনাগুলোতেও মানবিক সমাজনির্মাণের স্বাক্ষর বিরাজমান।