রাজধানীতে বাড়ছে মশাবাহিত চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৪৪ জন চিকনগুনিয়ায় এবং চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। রাজধানীর ২৩টি এলাকাকে চিকনগুনিয়ার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব বিভাগ। এই রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান সংশ্লিষ্টরা।

ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বহনকারী এডিস মশাই চিকনগুনিয়া ভাইরাসের বাহক। এ মশার কামড়েই মানুষ চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আই.ই.ডি.সি.আর এর তথ্য মতে, গত এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকায় চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৪ জন। আর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন।

বর্ষা ও বর্ষার আগে বৃষ্টির কারণে প্রজনন বাড়ে এডিস মশার। তবে বাসাবাড়ির ছাদ বা বারান্দার টবে বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এ মশার প্রজননের নিরাপদ স্থল।

আইইডিসিআর রাজধানীর ২৩টি এলাকা চিকুনগুনিয়ার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হল: ধানমন্ডি ৩২, ধানমন্ডি ৯/এ, লালমাটিয়া, পল্লবী, মগবাজার, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, রামপুরা, তেজগাঁও, বনানী, নয়াটোলা, কুড়িল, পীরেরবাগ, রায়ের বাজার, শ্যামলী, মণিপুরিপাড়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১, কড়াইল বস্তি, মহাখালী, মধ্যবাড্ডা, গুলশান-১, উত্তরা ৪ ও উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর।

ঢাকায় মহাখালীতে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী স্রেবিনা ফ্লেরা বলেন, ‘বালতিতে পানি ধরে রাখি, বা হাউজে পানি ধরে রাখি, এবং এগুলো আমরা পরিবর্তন করি না, লম্বা সময় পানি জমে থাকে, এগুলো এডিস মশার বংশবৃদ্ধি করে।’

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এসব এলাকায়ও খুব একটা দেখা মেলেনা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মীদের। ঢাকার সাধারণ বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘দিনের বেলাও মশা কামড়ায়, বসতে পারি না। মশার অত্যাচারে জ্বরটর আসে।’

কর্তৃপক্ষ আদৌ মশা দমনের ওষুধ বাড়িঘরের আসেপাশে ছিটিয়ে দিয়ে যায় কিনা জানতে চাইলে ঢাকার একজন সাধারণ মানুষ বলেন, ‘দেখিইনা আসলে মশার ওষুধ কবে দেওয়া হয়েছে।’

তবে দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করেই চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাউদ্দিন বলেন, ‘পরিত্যক্ত জিনিস আমরা রাখি কোথায়, ছাদে। সেখানে পানি জমে আছে। দুই বাড়ির মাঝখানে পানি জমে আছে, পলিথিন জমে আছে, পলিথিনের মধ্যে পাানি। এই জায়গাগুলোতো আমরা পারছি না।’

উত্তর সিটি করপোরেশন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম এম সালেহ ভূঁইয়া বলেন, ‘র‌্যালি করছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে মিটিং করছি। তাদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিচ্ছি এবং আমরা ইন্টিগ্রেটেড ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আমরা যৌথ ভাবে কাজ করছি।

ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করতেও অনুরোধ করেন তারা।