বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সামনে শীত আসছে, শরণার্থীদের বিশেষ করে শিশু ও নারীরা আছেন। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এদেরকে ফিরিয়ে নিন।

সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কাটাখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এই আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের দমনে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা নির্বিচারে বাড়িঘর জ্বালিয়ে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের দিকে দলে দলে ছুটে এসেছে রোহিঙ্গাদ জনগোষ্ঠী। গত দুই মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের আশ্রয় হয়েছে প্রধানত কক্সবাজারের উখিয়ায়।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে সরকার এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে ঢাকা।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশও গরিব দেশ। কিন্তু জনগণের মন অনেক বড়। নিজের পকেট থেকে মানুষকে টাকা দিতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু দীর্ঘদিন এদের বহন করা সম্বভ না।

খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছানোর আগেই সকালে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য আনা ৪৫ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। ত্রাণ হিসেবে প্রতি পরিবার পাবে ১০ কেজি চাল, কয়েক কেজি করে ডাল ও প্রয়োজনীয় কাপড় রয়েছে। ৫ হাজার শিশুকে দুধসহ শিশু খাদ্য ও ৫ হাজার প্রসূতি মাকে গর্ভকালীন প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

উখিয়ার কাটাখালী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে খালেদা জিয়া হাকিমপাড়া ও বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। সবশেষে বালুখালী পানবাজারে স্থাপিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু ও প্রসূতি মায়ের জন্য চিকিৎসা সামগ্রী চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

এর আগে রোহিঙ্গাদের দেখতে শনিবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রামে যাত্রা বিরতি করে রোববার রাতে কক্সবাজারে আসেন খালেদা জিয়া।