এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ প্রমাণিত অবদান ছাড়াও সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্যে শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হলে প্রকারান্তরে নোবেল কমিটিই গৌরবান্বিত হবেন। কারণ, নিজেরা নানাবিধ সংকটে থাকা সত্বেও লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় ও খাদ্য প্রদানের সিদ্ধান্তটি শুধু সাহসিকতারই পরিচায়ক নয়, পাশাপাশি মানবিকতার ক্ষেত্রেও তুলনাহীন’-এ অভিমত পোষণ করেছেন জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বর্তমানে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে এ মোমেন।

৪ অক্টোবর বুধবার রাতে নিউইয়র্কে বৃহত্তর সিলেটবাসীর উদ্যোগে তাকে প্রদত্ত ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে বক্তৃতাকালে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত মোমেন আরো বলেন, ‘এ যাবত শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত অনেকের বিরুদ্ধেই নানাবিধ অশান্তির সাথে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাদের মত নন। বিগত দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে নিজেকে শান্তির অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছেন।’

ড. মোমেন বলেন, ‘গত ৯ বছরে অর্থাৎ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটেছে, সিলেটসহ সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে চলেছে, নারী ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা এখন আর কেউই অস্বীকার করতে পারে না। এসব সম্ভব হয়েছে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে।’

ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধ করার যে সংকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, তার বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে সমসাময়িক বিশ্বের উপযোগী করতে হবে, প্রশাসনে মেধার সমন্বয় ঘটাতে হবে, উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনাকে উৎসাহিত করতে হবে। শেখ হাসিনা এবং তার সরকার সে ব্যাপারে অধিক সজাগ বলেও উল্লেখ করেন ড. মোমেন।

প্রবাসীদের নিজ জন্মভ’মিতে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে বাংলাদেশে। ইতিমধ্যেই অনেকে তার সুফল পেতে শুরু করেছেন। প্রবাসীরা আরো এগিয়ে গেলে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে।’

দীর্ঘ ৩ দশকেরও অধিক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আহবানে অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নেন ড. মোমেন। টানা ৬ বছর অত্যন্ত দাপটের সাথে সে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়ই আবারো শেখ হাসিনার ডাকেই প্রবাসের মায়া ছেয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন ২০১৫ সালে। এখন সকলেরই ধারণা যে, তার বড়ভাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সিলেট-১ আসন থেকে তাকে হয়তো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ‘দেশের এবং মানুষের কল্যাণের জন্যে এমপি হতেই হবে-এটি ঠিক নয়। এমপি না হয়েও কাজ করা যায় এবং তার অনেক উদাহরণ রয়েছে। তবে নেত্রী (শেখ হাসিনা) যদি চান, তাহলে অবশ্যই তা করবো। এক্ষেত্রে প্রবাসীদের অকুন্ঠ সমর্থনের বিকল্প নেই। কারণ, আমি সবসময়ই প্রবাসের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। প্রবাসীদের দেশপ্রেমের জুরি নেই-এটাও ভালো করেই অনুধাবন করি।’

সংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক সৈয়দ বসারত আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মানবাধিকার সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার এম এ সালাম, অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন ইফজাল চৌধুরী ও হুমায়ূন চৌধুরী।

বক্তারা ড. মোমেনকে জাতিসংঘে এযাবতকালের সবচেয়ে সফল স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবার পথ সুগম করেছেন। তার ৬ বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ যতগুলি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সবগুলোতেই জয়ী হয়। একবার সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছেন ড. মোমেন।’

অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ড. মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়।