মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে বর্বর আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, রাক্ষসী-দানবীরা যখন বিপদে পড়ে তখন চুপচাপ থাকে। কিন্তু যখন তাদের হাতে ক্ষমতা আসে তখন তারা নিজেদের রূপ বদলায়। আজ অং সান সু চির রূপ বদলাতে দেখছি, তিনি বর্বর। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, শান্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য যিনি নোবেল পুরস্কার পেলেন তার সরকারের নিরাপত্তাবাহিনী আজ কী নির্মম নৃশংসতা চালাচ্ছে। শিশুকে ফাঁসি দিচ্ছে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের হাত কেটে, গলা কেটে উৎসব করছে। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিচ্ছে। নিরীহ যুবকদের বাঁশের খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। ক্ষুধার্ত, আহত, গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গারা আজ নাফ নদীর তীরে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। রিজভী বলেন, সু চি’র এমন কর্মকা- ও বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছে খোদ তার জীবনী লেখক। তিনি বলেছেন, সুচির বক্তব্য আমাকে হতবাক করেছে। সু চি ক্ষমতার লোভে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পকেটে ঢুকে গেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তিনি কী করছেন? নিশ্চুপ বসে আছেন। কোন উত্তর নেই। আজ তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোন বক্তব্য নেই। বরং কটূক্তি করে বলছেনÑ ‘আমরা কি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব’। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনি দেশের মানুষকে গুম-খুন করতে পারেন। কিন্তু বাইরের শত্রুরা আমাদের দেশ আক্রমণ করলে তাদের কিছুই বলতে পারেন না। আওয়ামী লীগের চরিত্রই হল নিজেরা নিজ দেশের মানুষকে রক্তাক্ত, খুন, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যা করবেন। কিন্তু কোন শক্তিশালী দেশ যদি তাদের ওপর আঘাত করে, তাহলে তারা নতজানু থাকেন। রোহিঙ্গা সংকট চলাকালে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির উদ্যোগের সমলোচনা করে তিনি বলেন, খাদ্যমন্ত্রী মিয়ানমারে চাল আনতে গেছেন। কিন্তু সে দেশে কেন যেতে হবে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম বা কম্বডিয়ায় কি চাল পাওয়া যায় না? পেশাজীবী পরিষদের নেতা প্রফেসর ডা. এজডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে দৈনিক আমার দেশÑএর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও প্রফেসর আবদুল কুদ্দুস বক্তব্য দেন।