কিছু মানুষ আছে যারা স্বপ্নকে খুব গুরুত্ব দেয়। অনেকে আবার ভালো স্বপ্ন দেখাকে দ্বীনদারী ও বুজুর্গির আলামত মনে করে। আর খারাপ স্বপ্ন দেখলে অস্থির হয়ে পড়ে। অথচ স্বপ্ন তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নয়। মানুষ বিভিন্ন কারণে স্বপ্ন দেখে। কখনো শয়তানের প্ররোচনার কারণে দেখে। কখনো বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা স্বপ্নের কারণ হয়।

স্বপ্নকে কর্মের ভিত্তি বানানো যাবে না

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো অকল্যাণ তোমাকে স্পর্শ করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বজ্ঞ।’(সুরা আরাফ, আয়াত: ২০০)
হাদিস শরিফে এসেছে, স্বপ্ন তিন ধরনের। ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আনন্দ উদ্দীপনার জন্য। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে, মানুষকে চিন্তিত করার জন্য। আর কিছু স্বপ্ন হলো যা মানুষের চিন্তা-ভাবনার ফলাফল। তো তোমাদের কেউ যখন মন্দ স্বপ্ন দেখে, তখন সে যেন বিছানা ছেড়ে ওঠে এবং নামাজ পড়ে। আর অন্যের সঙ্গে তা আলোচনা না করে। (তিরমিযি শরিফ)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘গভীর রাত্রের স্বপ্ন অধিক সত্য।’(তিরমিযি শরিফ)
শয়তান মানুষকে নানাভাবে কষ্ট দেয়, নিদ্রায় দেয়, জাগরণে দেয়, ঘুমন্ত মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় দুঃস্বপ্ন দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয় এবং নানাবিধ অমূলক আশংকায় তার বুক দুরুদুরু করতে থাকে। হাদিস শরিফে এই কষ্ট থেকে মুক্তির পথ বলে দেয়া হয়েছে।
একদিন এক ব্যক্তি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুল্লাহ, আমি একটি ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি। আমি স্বপ্ন দেখলাম, আমার শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা শুনে হেসে ফেললেন এবং বললেন, ‘যখন শয়তান তোমাদের কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তির তামাশা করে, তখন সে যেন তা মানুষকে না বলে।’(মুসলিম ও মেশকাত)
অন্য হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি খারাপ স্বপ্ন দেখে, তাহলে এই স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবে। (বামদিকে) তিনবার থুথু দেবে এবং স্বপ্নের কথা কারো সঙ্গে আলোচনা করবে না। তাহলে এই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না।’(বুখারি ও মুসলিম)
স্বপ্নের মাধ্যমে মন আনন্দিত হলে তা দূষণীয় নয়। স্বপ্নের উপকারিতা এটুকুই। আরো অগ্রসর হয়ে স্বপ্নকে কর্মের ভিত্তি বানান যাবে না। এটা শরিয়ত সম্মত নয়। কোরআন সুন্নাহর কোথাও এই নির্দেশনা দেয়া হয়নি। মনে আনন্দ আসা ভিন্ন জিনিস আর কর্মে অবতীর্ণ হওয়া ভিন্ন জিনিস। কর্মের জন্য কোরআন-সুন্নাহই হলো পথ-প্রদর্শক। কোরআন-সুন্নাহর আদেশ-নিষেধের আলোকেই সকল কর্ম সম্পাদন করতে হবে।
স্বপ্নের উপকারিতা শুধু এটুকু যে, স্বপ্নের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ হতে পারে। তদ্রূপ কোনো স্বপ্নের মাধ্যমে গোনাহর কাজের ব্যাপারে সতর্ক করা হতে পারে। স্বপ্নের ব্যাপারে শরিয়তের এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করে বিভিন্ন সময় অনেক মানুষ নানা ধরনের গোমরাহিতে নিমজ্জিত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, স্বপ্ন নয়, কোরআন-সুন্নাহই হলো মুমিনের জন্য অনুসরণীয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহি বুঝ দান করুন। (আমিন আমিন ছুম্মা আমিন)