অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো স্বেচ্ছামৃত্যুর স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনা এই প্রথম। এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পূর্বে এ নিয়ে নানা মতভেদ ছিলো। ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় বাক্‌বিতণ্ডার পরে পার্লামেন্ট স্বেচ্ছামৃতুর পক্ষে অনুমোদন দেয়। এই আইনের সহায়তায় যে সব রোগী প্রচণ্ড অসুস্থ তারা প্রাণঘাতী ওষুধের মাধ্যমে নিজের জীবন অবসান করার অনুরোধ করতে পারবেন। এই আইন ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময় থেকে কার্যকর করা হবে।
তবে স্বেচ্ছামৃত্যু কার্যকর করার জন্য কিছু শর্তাবলী রয়েছে। এ ধরনের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা হবে। কিছু নির্দিষ্ট শর্তপূরণ এবং বিধিবিধান অনুসরণ করে তবেই কোন রোগী স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্বেচ্ছামৃত্যু কার্যকরের ক্ষেত্রে রাখা হয়েছে ৬৮টি সাবধানতা মূলক শর্তাবলী। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- স্বেচ্ছামৃত্যু চাওয়া রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন হতে হবে। রোগীকে মানসিকভাবে সমপূর্ণ সুস্থ হতে হবে। একজন রোগীকে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন চেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে তিনবার আবেদন করতে হবে। একটি বিশেষ প্যানেল এ ধরনের সব আবেদন বিবেচনা করবে। রোগীকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কোনোভাবে উদ্বুদ্ধ বা প্রভাবিত করা যাবে না। এছাড়া, স্বেচ্ছামৃত্যুর এই বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানর ক্ষেত্রে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়া প্রদেশের প্রধান ড্যানিয়েল আন্দ্রুস। তিনি বলেছেন, আমি আজ গর্বিত যে শেষ পর্যন্ত একটি মানবিক সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হতে পেরেছি। উল্লেখ্য, স্বেচ্ছামৃত্যুর বৈধতা দেয়া নেয়া বিরোধিতা জানিয়েছিলেন অনেক আইনজীবীরা। নানা সংশোধনের পরে শেষ পর্যন্ত এটি অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদন পায়।