সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় গোপালগঞ্জে ছয়জন, সিরাজগঞ্জে চারজন, টাঙ্গাইলে দু’জন, পাবনায় দু’জন, ঢাকায় একজন, রাজশাহীতে দু’জন ও চুয়াডাঙ্গায় একজন নিহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জে ৬ মাইক্রোবাস আরোহী নিহত : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার গেড়াখোলা নামক স্থানে বাসের চাপায় মাইক্রোবাস আরোহী ছয়জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে সৌদি প্রবাসীসহ বাগেরহাটের একই পরিবারের পাঁচজন রয়েছেন। অপর জন হচ্ছেন মাইক্রোবাস চালক।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ বাসযাত্রী। মারাত্মকভাবে আহত আটজনকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার গেড়াখোলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হতাহতের বিষয়টি কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে আলিনুর হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার গেড়া খোলা সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী হালিম আকন (৪০), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫), দুই ছেলে সুজন আকন (১৭), শিহাব আকন (৮) ও শ্যালক বাদশা ফরাজি (৩৭)। এদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইনের একটি যাত্রীবাহী বাস কাশিয়ানী উপজেলার গেড়াখোলা নামক স্থানে পৌঁছলে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে চাপা দেয়। এতে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। ঘটনাস্থলে ছয়জন নিহত হন এবং ১৫ জন বাসযাত্রী আহত হয়।

নিহতের বড় ভাই মতিয়ার রহমান আকন বলেন, ‘আমার ভাই হালিম আকন দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে থাকে। সে ঈদের ছুটি কাটাতে সৌদি থেকে বাড়ি আসার কথা জানালে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তার দুই ছেলে ও শ্যালক মিলে তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আনতে যায়। সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে দুর্ঘটনায় সবার মৃত্যু হয়।’

ভাই হারানোর শোকে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় আকন বাড়িতে চলছে কান্নার রোল।

সাউথখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, ‘খুড়িয়াখালি গ্রামের আকন বাড়ির একই পরিবারের পাঁচজন মারা যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন মৃত্যুতে স্বজন হারোনোদের সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।’

সিরাজগঞ্জে নিহত ৪ : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ জন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ভোরে রায়গঞ্জের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার রয়হাটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বগুড়ার কাহালু থানার ধামগাড়া গ্রামের মৃত কিয়ামত উল্লাহ মণ্ডলের ছেলে সোলেমান হোসেন (৬৫), তার ছেলে হারুনর রশীদের স্ত্রী লিলি আকতার (৩৫), লিলি আকতারের ছেলে সাগর হোসেন (১২), পাবনার বেড়া থানার জারই গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে মাইক্রোবাসচালক আব্দুস খালেক (৩২)।

আহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন হারুনর রশীদের ছেলে সবুজ (১৮) ও ইমার উদ্দিনের ছেলে মনসুর রহমান (৩০)।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন হারুনর রশীদ। স্বামীকে আনতে বগুড়ার কাহালু থেকে মাইক্রোবাসে লিলি আখতার তার দুই সন্তান ও শ্বশুর সোলেমানকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। ভোরে মাইক্রোবাসটি সলঙ্গার রয়হাটি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

টাঙ্গাইলে মাইক্রোবাস চাপায় ২ নারী নিহত : টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মাইক্রোবাসের চাপায় পথচারী দুই নারী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-জামালপুর সড়কের নিজবর্ণী এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ধনবাড়ী পৌর এলাকার নিজবর্ণী গ্রামের রেবা বেগম ও শাহাত্তন বেগম।

ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, জামালপুরগামী একটি মাইক্রোবাস ধনবাড়ী উপজেলার নিজবর্ণী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুই পথচারীকে চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের লাশ ধনবাড়ী থানায় রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২: পাবনার ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইক্ষু খামারের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দু’জন হলেন- আটঘরিয়া উপজেলার আরজোপাড়া গ্রামের হাসিবুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) ও একই উপজেলার দড়ি নাজিরপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে শিপন হোসেন (২৩)।

পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গনেশ চন্দ্র মন্ডল জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন আশরাফুল ও শিপন। দ্রুতগতিতে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দাশুড়িয়া-মুলাডুলি মহাসড়কের ইক্ষু খামারের সামনে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে মোটর সাইকেলসহ তারা ছিটকে মহাসড়কে পড়ে ছেঁচড়ে যায়। এতে মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এসআই গনেশ মন্ডল আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানীতে বাস-সিএনজি মুখোমুখি নিহত ১ : রাজধানীর জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসটিসহ চালককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম জামাল হোসেন (২৪)। তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালক।

আহতরা হলেন- ওসমান আলী (৩৫), জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০), মুফতি হাবিবুল্লাহ (৪০) ও জামাল হোসেন (৬০)। আহত যাত্রীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবদুল খালেক জানান, রাজধানীর জিরো পয়েন্ট মোড়ে সাভার পরিবহন নামের একটি গাড়ি ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে পাঁচজন আহত হন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা অশঙ্কাজনক।

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা-ভাতিজা নিহত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর বিজিবি চেকপোস্টের কাছে ট্রাক ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার(২৯ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তুষার ও শাহীন। তাদের বাড়ি নগরীর কেদুর মোড় বাড়ি এলাকায়।

রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান দু’জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গায়মোটরসাইকেলেরধাক্কায়একজননিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদী গ্রামে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আজিরন নেছা (৫৫) নামের একজন মহিলা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) আনুমানিক সকাল দশটার দিকে দূর্ঘটনায় আহত হন আজিরন নেছা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর দুপুরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় মাগুরা জেলা শহরে এম্বুলেন্সটি পৌছুলে সেখানেই তিনি মারা যান।

নিহত আজিরন নেছা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদী গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রী।

দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল দশটার দিকে বারাদী গ্রামে আজিরন নেছাকে (৫৫) একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত আজিরন নেছাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করে। রোগীর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মাগুরা জেলায় এম্বুলেন্সটি পৌছালে সেখানেই তিনি মারা যান।

ওসি আরো জানান, বিষয়টি পুলিশ আমলে নিয়েছে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।