৫৭০ সালে মক্কায় বিখ্যাত কোরাইশ বংশে জন্ম নেন বিশ্ব মানবতার দূত, রাহমাতুল্লিল আলআমিন হজরত মোহাম্মাদ (সা.)। দিনটি ছিল ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার। তবে এদিন নবী (সা.) জন্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও আলেম মনে করেন ১২ই রবিউল আউয়াল তাঁর জন্মদিন।
অন্যদিনে নবী (সা.) এর বংশধর আহলে বাইতের বর্ণনা অনুযায়ী রাসুল (সা.) এর জন্মদিন ১৭ই রবিউল আউয়াল। এজন্য বিশ্বের অনেক মুসলমান ১২ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান পালন করেন।
অনেক ইতিহাসবিদের মতে ইয়ামেনের গভর্নর আবরাহার হস্তী বাহিনী যেদিন ধ্বংস হয় যেদিন জন্ম নেন রাহমাতুল্লিল আলআমিন বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)। আর ঐদিনটিই ছিল ১২ই রবিউল আউয়াল।
এই দিনে পবিত্র কাবা ঘর আক্রমণ করতে আসা ইয়েমেনের আবিসিনিয় গভর্নর আবরাহা তার হস্তী বাহিনীসহ ধ্বংস হয়। আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু আবাবিল পাখির মুখে থাকা ক্ষুদ্র কঙ্কর আবরাহার হস্তী বাহিনীর ওপর বর্ষিত হলে তারা ঘাসের সঙ্গে বিলিন হয়ে পড়ে।
বলা হয়, আবরাহা চেয়েছিল ইয়েমেনে একটি বিকল্প কাবা-ঘর বা মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে যাতে এর মাধ্যমে ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার করা যায়। কিন্তু তার আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি।
ইতিহাসে এসেছে, আবরাহার সেনারা কুরাইশ গোত্রের প্রধান ও বিশ্বনবী (সা.) এর দাদা হজরত আবদুল মুত্তালিবের উটগুলো নিয়ে যাওয়ায় তিনি আবরাহার সঙ্গে দেখা করে তার উটগুলো ফেরত চান। আবরাহা ভেবেছিল আবদুল মুত্তালিব এসেছেন কাবা ঘরে হামলা না চালানোর জন্য তার কাছে কাকতি-মিনতি করতে। তাই বিস্মিত আবরাহা বলে, কাবা ঘর রক্ষা নিয়ে তোমার চিন্তা নেই? হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর পুত্র ইসমাইল (আ.) এর বংশধর ও একত্ববাদে বিশ্বাসী আবদুল মুত্তালিব বলেন, এই ঘরের যিনি মালিক (আল্লাহ) তিনিই তার ঘর রক্ষা করবেন, উটের মালিক হিসেবে আমি কেবল আমার উটগুলো ফেরত চাই।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখেই বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর নির্দেশে ইয়াসরিব বা মদীনা শহরের কাছে কুবা গ্রামে নির্মিত হয় ইসলামের প্রথম মসজিদ। বিশ্বনবী (সা.) এর হিজরতের ঘটনা ঘটেছিল একই বছর পহেলা রবিউল আউয়াল তারিখে।
মদিনায় প্রবেশের আগে বিশ্বনবী (সা.) এখানে কয়েক দিন অবস্থান করেছিলেন যাতে তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব মক্কা থেকে এখানে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। হিজরতে রওনা হওয়ার রাতে কাফেরদের ধোঁকা দিতে হজরত আলী চাদর মুড়ি দিয়ে মহানবী (সা.) এর বিছায় শুয়ে ছিলেন।
এ ছাড়াও রাসুল (সা.) তাঁর কাছে মক্কাবাসীদের গচ্ছিত আমানতগুলো ফেরত দেয়ার জন্য আলী কে দায়িত্ব দেন। আলী সেইসব দায়িত্ব পালন করায় মদীনার দিকে তিন দিন পর রওনা হন।
অবশেষে তিনদিন পর হজরত আলী কুবা গ্রামে এসে পৌঁছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিজের মা তথা রাসূল (সা.) এর চাচী ফাতিমা বিনতে আসাদ এবং নিজের ভবিষ্যত স্ত্রী ও বেহেশতি নারীদের প্রধান নবী-কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.) সহ বনি হাশিম গোত্রের মহিলারা।
এরপর আল্লাহর রাসুলের (সা.) ইমামতিতে কুবার এই মসজিদেই জুমা’র নামাজ আদায় করা হয়। যা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম জুমা’র নামাজ। ইসলামে কুবা মসজিদে নামাজ আদায় করার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here